kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চীনের সমালোচক ট্রাম্পকে নয় দক্ষিণ কোরিয়ার পছন্দ হিলারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চীনের সমালোচক ট্রাম্পকে নয় দক্ষিণ কোরিয়ার পছন্দ হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচকের সংখ্যা স্বদেশে নেহাত কম নয়। কিন্তু বিশ্বে বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যারা তাঁর অন্ধ ভক্ত এবং মনেপ্রাণে চায় ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের মালা তাঁর গলায়ই উঠুক।

তেমনি একটি দেশ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিষ্ঠান উইন/গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৮২ শতাংশ মানুষ হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট দেখতে চায়। আর রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে চায় মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ। ১৫ শতাংশ লোক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।

বিশ্বের ৪৫টি দেশে ৪৪ হাজার পূর্ণবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি চালানো হয়। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়েও হিলারির আরো বড় ভক্ত দুটি দেশ পাওয়া গেছে। দেশ দুটি হচ্ছে ফিনল্যান্ড ও পর্তুগাল। ফিনল্যান্ড ও পর্তুগালের যথাক্রমে ৮৬ শতাংশ ও ৮৫ শতাংশ মানুষ হিলারিকে প্রেসিডেন্ট দেখতে চায়। জরিপ চালানো প্রায় সব দেশেই হিলারির প্রতি সমর্থন ভালোই। ব্যতিক্রম কেবল রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ায় ট্রাম্প বেশি জনপ্রিয়। আর চীনে দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা সমানে সমানে।

চীনাদের দোটানার কারণ অবশ্য সহজেই অনুমেয়। সেটি হচ্ছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পেইচিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হিলারি সম্পর্কে চীনাদের মনোভাব যাই থাক না কেন, রিপাবলিকান ট্রাম্পের ব্যাপারে যে ইতিবাচক হবে না তা স্পষ্ট। কারণ ট্রাম্প চীনকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্র। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা নিয়ে পূর্ব এশিয়ায় যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সিউল ও ওয়াশিংটনের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু তাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় হিলারির জনপ্রিয়তা কেন বেশি এর কারণ খুঁজলে দুটি বিষয় পাওয়া যায়। প্রথমত, হিলারির জনপ্রিয়তা এবং দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের এশিয়া নীতি প্রণয়নে হিলারি অতীতে এক বড় ভূমিকা পালন করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে এশিয়ায় হিলারির অন্যতম প্রধান গন্তব্য ছিল সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে অগ্রণী ভূমিকা নেন সাবেক এই ফার্স্ট লেডি। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক বৈরিতার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন দক্ষিণ কোরিয়াকে আশ্বস্ত করে। উত্তর কোরিয়ার মোকাবিলার জন্য ছয় দেশীয় আলোচনা ছাড়াও হিলারি গুরুত্ব দেন ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে সামরিক জোটের ওপর। সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার হাত শক্ত করার জন্য সিউল হিলারির কাছে অনেকখানি কৃতজ্ঞ। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে চীনকে তুমুল আক্রমণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কিন্তু বিশেষ আস্থা দেখাননি। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান থেকে শুরু করে ন্যাটোর মতো ওয়াশিংটনের বিভিন্ন কূটনৈতিক বা সামরিক জোট সম্পর্কে ট্রাম্প বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। উল্টো তাঁর কথা শুনে মনে হয়েছে যেন তিনি ওই মিত্রতা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। বিশেষ করে কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত মার্কিন সেনার ভরণপোষণের বিষয় থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন-সিউলের মধ্যে উদার বাণিজ্য নিয়েও ট্রাম্প বক্রোক্তি করতে ছাড়েননি। স্বভাবতই, আহত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ। বিশেষত সম্প্রতি যেখানে ওয়াশিংটনের অনুরোধে সিউল নিজেদের দেশের সিওংজুতে মার্কিন সেনার সুরক্ষার কারণে ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ঘাঁটি গাড়ারও অনুমতি দেয়, সেখানে ট্রাম্পের এহেন বেপরোয়া কথাবার্তা যে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষকে চটাবে, তাতে আর সন্দেহ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশের কৌশলগত গুরুত্ব কতটা তা ট্রাম্প অনুধাবন করতে ব্যর্থ আর তাই হিলারির পক্ষে এই প্রবল সমর্থন। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।


মন্তব্য