kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০টি গরিব দেশের কোলেই অর্ধেকের বেশি শরণার্থী

ধনী দেশগুলো স্বার্থপর আচরণ করছে : অ্যামনেস্টি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১০টি গরিব দেশের কোলেই অর্ধেকের বেশি শরণার্থী

বিশ্বের দুই কোটি ১০ লাখ শরণার্থীর অর্ধেকেরও বেশি মাত্র ১০টি দেশে গাদাগাদি করে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্বভার বহনকারী এ ১০টি দেশের জিডিপি বৈশ্বিক জিডিপির মাত্র আড়াই শতাংশ।

শরণার্থীদের এমন অসম বণ্টনের জন্য বিশ্বের ধনী দেশগুলোর স্বার্থপরতাকে দায়ী করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল মঙ্গলবার ‘বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট মোকাবিলাকরণ : কর্তব্যবিমুখতা থেকে দায়িত্ব ভাগাভাগির পথে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে সম্পদশালী দেশগুলো সবচেয়ে কম শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে তারা সবচেয়ে পিছিয়ে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংগঠনের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি জানায়, বিশ্বের মোট শরণার্থীর ৫৬ শতাংশের বসবাস মাত্র ১০টি দেশে। এগুলোর মধ্যে জর্দানে শরণার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে বর্তমানে ২৭ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে, যাদের সাড়ে ছয় লাখের বেশি এসেছে প্রতিবেশী সিরিয়া থেকে। শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার দিক দিয়ে এর পরে রয়েছে যথাক্রমে তুরস্ক (২৫ লাখের বেশি), পাকিস্তান (১৬ লাখ) ও লেবানন (১৫ লাখের বেশি)। ১০টি দেশের বাকিগুলো হলো ইরান, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, কঙ্গো ও চাদ।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব সলিল শেঠি বলেন, ‘গুটিকয়েক দেশের ঘাড়ে অনেক বেশি দায়িত্ব চেপে বসার কারণ হলো তারা সংকটজর্জরিত দেশগুলোর প্রতিবেশী। ’ তাঁর অভিমত, ‘আমরা যদি শরণার্থীদের ভাগ করে নিই, ধরুন ৬০ থেকে ৯০টি দেশ তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে নেয়, তবে আমরা একেবারে ভিন্ন একটা পরিস্থিতি দেখতে পাব। সমস্যাটা অনেক বড়, কিন্তু সমাধানটা খুব সহজ। ’ তাঁর সুপারিশ, সম্পদশালী প্রতিটি দেশ যদি তাদের আকার, সম্পদ ও বেকারত্বের হার অনুপাতে শরণার্থীদের জায়গা দেয়, তবে সংকটের সমাধান খুব সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘স্রেফ অর্থ পাঠিয়ে বসে থাকার ব্যাপার এটা নয়। ধনী দেশগুলো শরণার্থীদের দূরে রাখার স্বার্থে অর্থের বিনিময়ে রেহাই পেতে পারে না। ’ ধনী দেশগুলোর এ আচরণ শরণার্থী সংকট আরো ঘনীভূত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য