kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গণভোটে ফার্ক শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কলম্বিয়ায় রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) গেরিলাদের সঙ্গে সরকারের করা শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। রবিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে চুক্তির বিপক্ষে ৫০.২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

চার বছরের আলোচনার পর গত সপ্তাহে ফার্ক নেতা তিমোচেনকো ও মধ্য-ডানপন্থী সরকারের প্রধান মানুয়েল সান্তোস ওই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ‘সম্মতি’র প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। ভোটের ফলাফলে দেশটিতে শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সান্তোস বলেছেন, চুক্তির বিষয়ে জনগণের রায় তিনি মেনে নিচ্ছেন। তবে কলম্বিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। তিনি ইতিমধ্যে চুক্তির মধ্যস্থতাকারীদের কিউবায় গিয়ে ফার্ক নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে বলেছেন। তিমোচেনকোও যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে অঙ্গীকার করেছেন। বলেছেন, তাঁর দল অস্ত্রবিরতি চুক্তি মেনে চলবে।

রবিবারের গণভোটে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম; মাত্র ৩৭ শতাংশ। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ভোট পড়েছে। প্রায় ৫৪ হাজার ভোটে চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। চুক্তির পক্ষে ৪৯.৮০ শতাংশ ভোট পড়ে।

গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার টেলিভিশনে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল; আয়োজন করেছিল কনসার্ট ও শান্তি শোভাযাত্রার। ধারণা করা হচ্ছিল, শান্তিচুক্তির পক্ষেই জনরায় আসবে।

গণভোটের ফল ঘোষণার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সান্তোস জনরায় মেনে নিলেও শান্তির জন্য তাঁর চেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, ফার্ক ও সরকারের মধ্যে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ অব্যাহত রেখেই মধ্যস্থতাকারীদের দ্রুত কিউবায় গিয়ে ফার্ক নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হাল ছাড়ছি না। দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি শান্তির জন্য কাজ করে যাব; কেননা এই পথেই আমাদের শিশুদের জন্য একটি ভালো দেশ রেখে যাওয়া সম্ভব। ’

ফার্ক নেতা তিমোচেনকো জানিয়েছেন, তাঁর দল এখনো যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে অঙ্গীকারবদ্ধ। হাভানার রাজধানী কিউবায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যাঁরা শান্তির স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। শান্তির জয় আসবেই। ’ গেরিলা দলটি  ৫২ বছরের যুদ্ধ থামিয়ে অস্ত্র সমর্পণ ও ছয় মাসের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দল গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য