kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না ওরা

দুই পারেই ওদের বন্ধন, তত্ত্বতালাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দুই পারেই ওদের বন্ধন, তত্ত্বতালাশ

ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে যাচ্ছে ভারতীয়রা। ছবি : এএফপি

তথাকথিত সীমানা দিয়ে ১৯৪৭ সালে যাদের আলাদা করা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের দুই পারের সেসব বাসিন্দা আজও নিজেদের অস্তিত্বকে আলাদা করে ভাবতে পারে না। তাই সীমান্ত পারাপার তাদের জীবনে নৈমিত্তিক ঘটনা।

কিন্তু এখন তারা ভীত, দুই দেশের সরকার যদি সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেয়!

ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় খুব চিন্তায় পড়ে গেছেন গুলাম আলী। তিনি ভারতে থাকেন। কিন্তু স্ত্রী-ছেলে তো পাকিস্তানে। গুলাম আলী জানান, শুধু তিনি নন, তাঁর পুরো পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঞ্জাবের ভারত-পাকিস্তান উভয় অংশে বাস করে আসছে। দুই বছর আগে তিনি পাকিস্তানের এক নারীকে বিয়ে করেন। নিজে ভারতে থাকলেও নিয়মিত তিনি স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে পাকিস্তানে যান। কিন্তু এখন! প্রিয় মুখগুলো কবে দেখতে পাবেন, তা তিনি জানেন না। এত সব ঝঞ্ঝাটের আগে থেকেই তিনি স্ত্রীর জন্য ভারতের ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। সেটাও হয়নি।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের উরির সেনাছাউনিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার জেরে আজকের এ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। হামলায় ভারত সরকার পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করে সন্ত্রাসী নির্মূলের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সেনা অভিযান চালায়। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, তাদের নজরদারি এড়িয়ে এ ধরনের অনুপ্রবেশ এবং অতর্কিত সেনা অভিযান একেবারে অসম্ভব। তাই তারা ভারতীয় সেনা অভিযানের দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েনের জেরে উভয় সরকার সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে গুলাম আলীর মতো মানুষরা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো একই মানুষ। ’ তাই উভয় দেশের সরকার বিশেষত ভারত সরকারের প্রতি তাঁর প্রত্যাশা, ‘আমাদের মতো যাদের দুই দেশেই পরিবার রয়েছে, তাদের পারাপারে ও দেখা-সাক্ষাতে যাতে সমস্যা দেখা না দেয়, সেটা যেন নিশ্চিত করা হয়। ’

কেবল গুলাম আলী নন, এ রকম আরো বহু মানুষ রয়েছে। মোহাম্মদ ইফতেখারের কথাই ধরা যাক। সীমান্তে চরম উত্তেজনার মধ্যেই তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে সঙ্গে করে মিষ্টি আর একগাদা উপহারবোঝাই ব্যাগপত্র নিয়ে পাঞ্জাবের ওয়াগা সীমান্তে চলে এসেছেন। সাতচল্লিশে পাঞ্জাব ভাগ হলেও পরিবারগুলোর সম্পর্ক তো ভাগ হয়ে যায়নি। তাই স্বজনদের দেখতে তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।   সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য