kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘ট্রাম্প প্রতিভাবান বলেই কর রেয়াত পেয়েছিলেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ট্রাম্প প্রতিভাবান বলেই কর রেয়াত পেয়েছিলেন

ব্যবসায় লোকসান দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ বছর কর রেয়াত পেয়েছেন—এমন এক বিস্ফোরক খবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে রীতিমতো ঘূর্ণি বাতাস বইছে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ট্রাম্পের সহযোগীদের দাবি, ‘প্রতিভাবান’ বলেই এমন সুযোগ পেয়েছেন ট্রাম্প।

তবে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান সহযোগী বার্নি স্যান্ডার্সের ভাষায়, সবাই যদি এমন প্রতিভাবান হতেন তাহলে দেশের অস্তিত্ব থাকত না।

গত শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ট্রাম্প প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেননি। তবে মেনেও নেননি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সম্ভবত ১৮ বছর কর দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে লোকসানের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বৈধ। তবে প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের প্রধান অস্ত্রই যেখানে ব্যবসায়িক সাফল্যের, সেখানে এ তথ্য আস্থার সংকট তৈরি করে। এ ছাড়া গত ৪০ দশকের মধ্যে তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যাঁর আয়কর-সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র এবং ট্রাম্পের সহযোগী রুডি গিলিয়ানি বলেন, এটা সত্য হলে ট্রাম্পকে প্রতিভাবান বলতেই হয়। ব্যবসা করতে গেলে সর্বোচ্চ লাভের দিকে মানুষের দৃষ্টি থাকে। সেখানে আইনসম্মত রেয়াত নেওয়াই যায়।

প্রতিবেদনের বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার না করেই কর প্রসঙ্গে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘জটিল কর আইন আমি খুব ভালো বুঝি। এ যাবৎকালে যে কোনো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর তুলনায় এ বিষয়ে আমার জ্ঞান উন্নত। এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থাও শুধু আমিই নিতে পারব। ’

ট্রাম্প-হিলারির মধ্যকার প্রথম টিভি বিতর্কেও তাঁর করের বিষয়টি উঠেছিল। হিলারি সে সময় অভিযোগ করেন, ট্রাম্প কেন্দ্রীয় করের প্রায় কিছুই প্রদান করেননি। এ সময় ট্রাম্প জবাব দেন, ‘আমি বুদ্ধিমান বলেই কাজটি পেরেছি। ’

ডেমোক্রেটিক দলের সিনেট সংখ্যালঘু নেতা হ্যারি রেইড বলেন, ট্রাম্প হলেন কোটিপতি অভাগা। তিনি সিনেটের প্রতি প্রার্থীদের কর রিটার্ন প্রকাশ বাধ্যতামূলক করারও আহ্বান জানান। এনবিসি টেলিভিশনের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে হিলারির প্রচারশিবিরের ব্যবস্থাপক রবি মুক বলেন, একটা সত্যিকারের বাজে সপ্তাহ পার করলেন ট্রাম্প। বিতর্কে পরজিত হয়েছেন। কর নিয়ে নাজেহাল অবস্থায় পড়ছেন। সাবেক মিস ইউনিভার্স এলিসিয়া মাচাদোকে মিস পিগি, মিস হাউসকিপিং বলে মন্তব্য করা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার কারণেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। প্রসঙ্গটি তুলে হিলারি এক টুইট বার্তায় বলেন, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মেজাজের দিক থেকেও যে ট্রাম্প অযোগ্য এটি এরই প্রমাণ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য