kalerkantho


শান্তির সুযোগকে কেন ‘না’ বলল কলম্বীয়রা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শান্তির সুযোগকে কেন ‘না’ বলল কলম্বীয়রা

গণভোটে সামান্য ব্যবধানে সরকার-ফার্ক শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয়। পাঁচ দশকের গৃহযুদ্ধ অবসানের পথে এমন বাধা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে অনেকেই। ছবিটি গত রবিবার তোলা। ছবি : এএফপি

৫২ বছরের গৃহযুদ্ধে মারা গিয়েছিল দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৩০ হাজার। আর বাড়িঘর হারিয়েছে ৭০ লাখ মানুষ। গৃহযুদ্ধে হাঁপিয়ে ওঠা কলম্বিয়ার মানুষের সামনে যখন শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে সরকার-ফার্ক শান্তিচুক্তিটি হাজির হলো তখন আবার তাকে প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। তাই স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে, কেন এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করল তারা? এর কারণ অনুসন্ধানে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বার্তা সংস্থা এএফপি কিছু তথ্য তুলে ধরেছে।

শাস্তি মওকুফে ‘না’

সরকারি তথ্য মতে, সরকারি বাহিনী-ফার্ক লড়াইয়ে যে পরিমাণ হতাহতের এবং উদ্বাস্তু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তাতে ফার্কের প্রতি অনেকেই বিরূপ। শান্তিচুক্তিতে ফার্ক বিদ্রোহীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব করা হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষই মনে করে, ফার্ক বিদ্রোহীরা গণহত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক যুদ্ধাপরাধ করেছে। কিন্তু চুক্তিতে যেসব ফার্ক বিদ্রোহী অপরাধ স্বীকার করেছে, তাদের দণ্ড মওকুফ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। মনিকা গঞ্জালেস নামের এক নারী বলেন, চুক্তিতে ফার্কের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় মনোভাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু ফার্কের বিদ্রোহীরা ২০১১ সালে তাঁর নানিকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, ফার্ক বিদ্রোহীদের শাস্তি লাঘবের বিষয়ে তিনি একমত নন।

সাম্যবাদে ‘না’

ভূমির নিয়ন্ত্রণ ও সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে ফার্ক গড়ে ওঠে। কিউবার মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তিতে ফার্ককে বেসামরিক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে ফার্ককে মেনে নেওয়া কলম্বিয়ার জনগণের জন্য খুব কঠিন। কলম্বিয়ার জনগণ আদর্শগত ও নৈতিক দিক থেকে ফার্ককে প্রত্যাখ্যান করে। চুক্তির বিরোধিতাকারী কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবে বলেন, এই চুক্তি দেশকে কাস্ত্রো-শাভেজপন্থীদের দিকে নিয়ে যাবে। গণভোটের ফলাফল চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পক্ষে যাওয়ায় জিসাস ভিভাস নামের এক প্রবীণ বলেন, “গতকালের গণভোটে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে। এতে আমার পরিবার ও শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা হয়েছে। আমরা সাম্যবাদকে ‘না’ বলেছি। ”

সান্তোসকে ‘না’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস গত ২৬ সেপ্টেম্বরে যখন ফার্কের সঙ্গে চুক্তি সই করেন তখন তিনি বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চুক্তির পক্ষে সমর্থনের হার ক্রমে কমে আসে। চুক্তিবিরোধীদের বক্তব্য, তারা শান্তির পক্ষে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ করার কৃতিত্ব সান্তোস যেভাবে নিতে চেয়েছেন, তাতে তাদের আপত্তি রয়েছে। কংগ্রেস উইম্যান মারিয়া ফারনান্দা কাবাল বলেন, ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলবে। কিন্তু দেশকে লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়ে নয়। অথবা প্রেসিডেন্ট সান্তোসের অহমিকা বজায় রেখে নয়।

ভোটে অনীহা

গণভোটে মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। কলম্বিয়ার জনগণের মধ্যে এই গণভোট নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ লক্ষ করা যায়নি। চুক্তির বিপক্ষে ৫০.২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। চুক্তির বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার কারণ হিসেবে কলম্বিয়ার ১৯ বছরের শিক্ষার্থী কার্লোস গঞ্জালেস বলেন, তিনি শান্তির পক্ষে। কিন্তু চুক্তির বিপক্ষে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গঞ্জালেসের মতো আরো অনেকেরই বক্তব্য প্রায় এমনই। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য