kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভিয়েতনামের সৈকতে মরা মাছের স্তূপ

দূষণ ছড়ানো কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দূষণ ছড়ানো কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

ভিয়েতনামে অবস্থিত একটি তাইওয়ানি স্টিল কারখানা বন্ধ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে গতকাল রবিবার বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার ভিয়েতনামি। ফরমোসা নামের কারখানাটির বিষাক্ত বর্জ্যে দেশটির সমুদ্র উপকূলে লাখ লাখ মাছ মারা যায়।

এ জন্য কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ চলে আসছে দেশটিতে।

গত এপ্রিল থেকে অসংখ্য মরা মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসতে থাকে ভিয়েতনাম সৈকতে। মাইলের পর মাইল জুড়ে মরা মাছের স্তূপ দেখা গেছে। ভিয়েতনামের কয়েক দশকের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় পরিবেশগত দুর্যোগ, যেখানে উপকূলবর্তী মানুষের প্রধান জীবিকা হচ্ছে মৎস্য শিকার।

গতকাল ভিয়েতনামের হা তিন প্রদেশে ফরমোসা কারখানা এলাকায় জড়ো হয় অসংখ্য মানুষ। তাদের কেউ কেউ মোটরসাইকেল ও কেউ হেঁটে বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ কারখানার দেয়াল বেয়ে ওঠার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন এবং স্লোগান দেয়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘কর্তৃপক্ষ, দয়া করে জাতির ভবিষ্যতের জন্য ফরমোসা কারখানা বন্ধ করো। ’ হোয়াং সি সন নামের একজন বলেন, ফরমোসার কেলেঙ্কারিতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা আরো বেশি পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানায়।

তাইওয়ানি প্রতিষ্ঠান ফরমোসা উপকূলবর্তী এলাকায় কয়েক শ কোটি ডলারের একটি স্টিল কারখানা গড়ে তুলছে। এই কারখানার নিষ্কাশিত বিষাক্ত বর্জ্যকেই ওই দুর্যোগের জন্য দায়ী করা হয়। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ কোটি ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তারা আগামী অক্টোবর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করবে। গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে জনপ্রতি ১৩০ থেকে এক হাজার ৬০০ ডলার দেওয়া হবে। গতকালের বিক্ষোভ ছিল এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো এবং কারখানাটি বন্ধের দাবিতে।

প্রসঙ্গত, ভিয়েতনামে গত এপ্রিলের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা। গত এপ্রিল থেকে বিক্ষোভ চলে এলেও কর্তৃত্বপরায়ণ এ রাষ্ট্রে এখনই জোরালো বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। পুলিশ আগে অনেক বিক্ষোভ বানচাল করে দেয়। জেলে পাঠিয়েছে অনেক বিক্ষোভকারীকে। আর ফরমোসার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৪ সালে কারখানাটির বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে ১৪ জন মারা গিয়েছিল। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য