kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কলম্বিয়ায় শান্তিচুক্তি

স্বজনদের মাঝে অশ্রু আনন্দে ফার্ক যোদ্ধারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্বজনদের মাঝে অশ্রু আনন্দে ফার্ক যোদ্ধারা

সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারমুক্ত হওয়া রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) সদস্যদের অনেকে নির্মল আনন্দে কাদায় মাখামাখি হয়ে ফুটবল খেলছে, কেউ বা বহুদিন পর  প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপভোগ করছে। তাদের ক্যাম্পে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে বন্ধসুলভ আচরণ প্রকাশেও ব্যস্ত কেউ কেউ।

তাদের সবার এখন একটাই চাওয়া—সবাই মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

মিরিয়াম ভেনেগাস অশ্রু থামাতে পারছেন না। তাঁর সেই কিশোর ছেলেটিকে প্রায় ১০ বছর পর যখন বুকে জড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, এখন তাঁর সন্তান তারুণ্যে ভরপুর। ছেলেকে ফিরে পেয়ে হৃদয়জুড়ানো মা মিরিয়াম বলেন, ‘কেউ বুঝবে না, আমি এখন কতটা সুখী। ’

মিরিয়াম নিজেই জানালেন আদ্যোপান্ত। ছেলের বয়স যখন ১৩ বছর, তখন তাকে নিয়ে যায় ফার্ক সদস্যরা। অনেক খুঁজেছেন ছেলেকে। গত সপ্তাহেই তার চোখ আটকে যায় টেলিভিশনের একটি দৃশ্যে। ফার্কের এক সম্মেলন অনুষ্ঠান টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছিল। সেখানেই ছেলেকে দেখতে পান মিরিয়াম। আর এরপরই কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ফার্কের এল দিয়ামান্ত ক্যাম্পে চলে আসেন তিনি। তাঁর হাতে ছিল ছেলের সেই কৈশোরের ছবি। এক নারী ফার্ক সদস্য সেই ছবি দেখে আজকের তরুণটিকে চিনতে পারেন। ওই নারীই পথ দেখিয়ে মিরিয়ামকে তাঁর ছেলের কাছে পৌঁছে দেন। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে মিরিয়ামের অশ্রু আর বাঁধ মানেনি।

গত সোমবারের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে আগে থেকেই সাজসাজ রব পড়ে যায় এল দিয়ামান্ত ক্যাম্পে। সাংবাদিকসহ অন্য দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা নতুন করে বিশেষ কুঁড়েঘর, এমনকি শৌচাগারও নির্মাণ করে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সোনালি ক্ষণ উদ্যাপনের নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল ফুটবল খেলা। কাদামাটির মাঠের দুপাশে বাঁশের খুঁটি গেড়ে গোলপোস্ট বানায় তারা। নিজেদের মধ্যে ম্যাচ তো ছিলই, দর্শনার্থীদের সঙ্গেও ফুটবল খেলে ফার্ক সদস্যরা।

তেমনই এক ফার্ক খেলোয়াড় ডেভিড প্রেসিয়াডো। কাদা মেখে সারা হয়েও শিশুসুলভ আনন্দে উচ্ছল তিনি। ফার্কে যোগদান সম্পর্কে তিনি জানান, বন্দুক পছন্দ করতেন। স্রেফ এ কারণেই ১৯ বছর বয়সে তিনি ফার্কে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর অতর্কিত হামলায় বাঁ হাত হারিয়ে তাঁকে এ পছন্দের খেসারত দিতে হয়েছে। এখন তাঁর বয়স ৩০। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর তাঁর অনুভূতি, ‘সরকার আমাদের পরাজিত করেনি। আর আমরাও তাদের পরাজিত করিনি। ’ তাই বলে নিজেদের যুদ্ধ বৃথা যায়নি, এমনটাই মনে করেন ডেভিড। সামনের দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য, রাজনৈতিক উপায়ে জনগণকে ক্ষমতার অধিকারী করার জন্য আমাদের একসঙ্গে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগোতে হবে, এ ব্যাপারে আমরা সজাগ। ’

শান্তিচুক্তির ব্যাপারে জনমত জানতে আগামী রবিবার দেশটিতে গণভোট হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে করা দুটি জরিপ বলছে, শান্তিচুক্তিপন্থীরাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। চুক্তিতে ফার্ক সদস্যদের রাজনৈতিক অপরাধের সাধারণ ক্ষমার কথা বলা হলেও গণহত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ব্যাপারে দায়মুক্তির সুযোগ রাখা হয়নি।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য