kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রাম্পের নতুন অভিযোগ

হিলারিও তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হিলারিও তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নন

বিস্ময়কর মন্তব্য, বক্তব্য ও অভিযোগের জন্ম দিয়ে সব সময় আলোচনায় থাকা রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারের প্রধানতম অস্ত্র। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে শোরগোল তোলার পর এবার তিনি নেমেছেন খোদ হিলারির চরিত্র বিশ্লেষণে।

এই ধনকুবের আবাসন ব্যবসায়ীর দাবি, হিলারি সব সময় তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন, এমন নয়।

ট্রাম্পের যেকোনো অভিযোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তিনি কখনো কোনো বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করেন না। এবারও সে পথ মাড়াননি। উল্টো ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে হিলারির প্রতিক্রিয়া জানতেই অধীর-অস্থির সাংবাদিকরা। যদিও সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সাড়া দেননি।

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ল্যাংকেস্টার কাউন্টিতে গত শনিবার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প নতুন করে এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পদে হিলারির শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য স্বামীর প্রতি হিলারির অবিশ্বস্ততার প্রসঙ্গটি তুলেছেন প্রশ্ন আকারে। বিল ক্লিনটনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘হিলারি কি তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত? আমি তা মনে করি না। তাঁর বিশ্বস্ত থাকার কোনো কারণও নেই। হিলারি শুধু তাঁর দাতা এবং নিজের প্রতি বিশ্বস্ত। ’

এই মন্তব্যের মাত্র এক দিন আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বিতর্কে ক্লিনটন কেলেঙ্কারি নিয়ে কথা বলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরো অভিযোগ করেন, হিলারি তাঁর স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি ক্লিনটনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে যেসব নারী অভিযোগ করেছেন তাঁদের হেনস্তাও করেছেন। যদিও ট্রাম্প তাঁর এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাননি।

ট্রাম্পের নিজের জীবনেও অবশ্য কেলেঙ্কারির কমতি নেই। প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রণয়ে জড়িয়ে ট্যাবলয়েডের শিরোনাম হন তিনি। পরে তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। প্রেমিকা মার্লা ম্রাপলসকে বিয়ে করেন। সে বিয়েও টেকেনি। অর্থাৎ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ থেকে তিনিও মুক্ত নন।

শনিবারের ভাষণে ভোট কারচুপি নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের প্রতি নজর রাখতে বলেন তিনি। তাঁর এই অভিযোগেরও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

হিলারিকে এভাবে ব্যক্তিপর্যায়ে আক্রমণ ট্রাম্পের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে দ্বিধান্বিত বিশ্লেষকরা। এমনিতেই নারী মহলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খুব কম। এর ওপর হিলারির চরিত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে বিষয়টি বুমেরাং হতে পারে। সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 


মন্তব্য