kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কলকাতার পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ

গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

সুজেট জর্ডন

কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে ২০১২ সালে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাদের খান সাড়ে চার বছর পালিয়ে থাকার পর ধরা পড়েছে। আরেক পলাতক অভিযুক্ত আলী খানকেও একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লির লাগোয়া গ্রেটার নয়াডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় অন্য তিনজন আগেই ধরা পড়েছে এবং বিচারে তাদের সাজাও হয়েছে। তবে সাজা ঘোষণার আগেই ধর্ষিতা নারী সুজেট জর্ডন মেনিঞ্জাইটিস রোগে গত বছর মার্চে মারা গেছেন।

দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেছেন, বেশ কিছুদিন আগেই তাঁদের কাছে খবর আসে যে কাদের দিল্লির কাছাকাছি কোথাও আছে। এর পর থেকেই খোঁজ শুরু হয়। আত্মীয়স্বজনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে দেখা যায় যে একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে মাঝে মাঝেই আত্মীয়দের কাছে ফোন আসছে। সেই মোবাইল নম্বরটির সূত্রেই বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়।

দোষীদের কয়েকজনের সাজা হয়ে যাওয়া এবং ধর্ষিতার মৃত্যুর পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে মনে করছে পুলিশ আর আইনজীবীদের একাংশ।

২০১২ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে পার্ক স্ট্রিটের একটি অভিজাত হোটেল থেকে বেরোনোর সময় কাদেরসহ অন্য অভিযুক্তরা লিফট দেওয়ার নাম করে সুজেট জর্ডনকে গাড়িতে তোলে এবং ধর্ষণ করে। পরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে অভিযোগ ওঠে যে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকার করেছিল। ওই ঘটনাকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক মন্ত্রীও ‘সাজানো ঘটনা’ বলেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তেই অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। পরে ঘটনার শিকার সুজেট জর্ডন নিজেই অন্তরাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুজেট বলেছিলেন, ‘আমি কেন পরিচয় গোপন করে থাকব? যারা ধর্ষণ করেছে, তাদেরই উচিত মুখ লুকিয়ে থাকা। ’ ভারতে কোনো ধর্ষিতা নিজেই পরিচয় প্রকাশ করছে—এমন ঘটনা সেটাই প্রথম না হলেও খুবই বিরল।

তবে বিচারের দীর্ঘসূত্রতার ফলে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আগে তিনি যেমন আগে ধৃতদের সাজা হওয়া দেখে যেতে পারেননি, তেমনি জানতে পারলেন না মূল অভিযুক্ত কাদের খানের গ্রেপ্তার হওয়ার খবরও।

সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য