kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রার্থীকে অনুমোদন দেওয়ার প্রথা

যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের বাঁকবদল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের বাঁকবদল

যেকোনো দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অনুমোদন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের পুরনো রেওয়াজ। ১০০ বছর আগেও এ প্রথা ছিল।

বিষয়টি তখন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি আজও এর গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। সে কারণেই নির্বাচনের আর মাত্র ৬৬ দিন হাতে রেখে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে যখন মাত্র তিনটি পত্রিকা অনুমোদন দেয় তখন বিস্মিত হতেই হয়। এর অর্থ কি এই যে বাকি সব পত্রিকাই ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করছে? দুই প্রার্থীর যোগ্যতার ব্যবধান এতই বেশি? এভাবে ভাবতে গেলে হিসাবের অতি সরলীকরণ করা হয়ে যায়।

এবারের পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের অগ্রহণযোগ্যতা, একই সঙ্গে ট্রাম্পকে বেছে নেওয়ায় রিপাবলিকান পার্টির অসহায়ত্ব। ‘ইউএস টুডে’র কথা ধরা যাক। গত ৩৪ বছরে পত্রিকাটি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করেনি। সেই নীতিতে গত শুক্রবার পরিবর্তন এনেছে তারা। তবে সরাসরি কোনো প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানায়নি, বরং ট্রাম্পকে তিরস্কার করেছে। গত শুক্রবার সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি জানায়, এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুজন যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে নয়, যাঁদের মধ্যে আদর্শগত বিভেদ রয়েছে। ইউএস টুডের সম্পাদকীয় বোর্ড সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছে যে এবার রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের অযোগ্য। এতে বলা হয়, এই কুশলী ব্যবসায়ী অসৎ ও অদূরদর্শী।

যুক্তরাষ্ট্রে বহু পত্রিকার প্রার্থীকে অনুমোদনের একটি অংশ ইউএস টুডে। তাদের প্রকাশটি একটু ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এসেছে, বিষয়টি এখানেই। ‘আরিজোনা রিপাবলিক’ পত্রিকা ঐতিহ্যগতভাবেই রিপাবলিকান সমর্থক। এবার তারা তাদের ১২৬ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে ডেমোক্র্যাট হিলারিকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের যুক্তি, ট্রাম্প যথার্থ রক্ষণশীল নন। ট্রাম্পের অযোগ্যতার দোহাই দিয়ে হিলারিকে সমর্থন দিয়েছে আরেক রিপাবলিকান দৈনিক ডালাস মর্নিং নিউজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা কখনোই ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন দেয়নি। ‘হিউস্টন ক্রনিক্যাল’ অবশ্য এ প্রথায় পরিবর্তন আনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় থেকেই। তবে ইউএস টুডে তাদের বক্তব্যে আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট করে দিয়েছে আর তা হলো, তারা হিলারির প্রতিও সমর্থন জানায়নি। ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করার অর্থ তাদের দৃষ্টিতে এই নয় যে হিলারির প্রতি সমর্থন।

সচরাচর নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দলের প্রার্থীর প্রতি প্রায় সমসংখ্যক পত্রিকা তাদের সমর্থন জানায়। ব্যতিক্রম দেখা গেল এবারই। ট্রাম্পের চেয়ে বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর গ্যারি জনসনের প্রতি অধিকসংখ্যক পত্রিকা সমর্থন দিয়েছে।  

নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জার্নালিজমের সহযোগী অধ্যাপক চার্লস ফাউন্টেন বলেন, রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র পত্রিকা। অতীতে দলগুলোই পত্রিকা চালাত, তবে এখন পত্রিকাগুলো দলীয় প্রভাব থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরও প্রতি নির্বাচনে তারা পছন্দের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানায়। সম্পাদকীয় বোর্ডের এসব পছন্দ ভোটারদেরও প্রভাবিত করে; যদিও ১০০ বছর বা ৫০-৬০ বছর আগে এর মাত্রা যতটা ছিল এখন আর তেমনটি নেই। সূত্র : দ্য ক্রিস্টিয়ান সায়েন্স মনিটর।


মন্তব্য