kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানে ভারতের অভিযান চালানোর পাঁচ কারণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানে ভারতের অভিযান চালানোর পাঁচ কারণ

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানসংলগ্ন ওয়াগা সীমান্তে সতর্ক প্রহরা দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ওই সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্য থেকে সব গ্রামবাসীকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য সরকার। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আচমকা পাকিস্তান সফরে আন্তর্জাতিক মহলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের আশা জাগে। সেটা ছিল ১১ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর।

কিন্তু সাত দিনের মাথায়ই সে আশায় চিড় ধরে। আর এখন দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনের স্বপ্ন সুদূর পরাহত বলেই মনে হচ্ছে। কারণ গত বুধবার ভারতের সেনাবাহিনী কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে আচমকা  অভিযান চালায়। ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নামের ওই অভিযানের পর উভয় পক্ষের তরফেই পরস্পরের বহুত ক্ষয়ক্ষতি ঘটনারো দাবি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সেনা নিহত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক পথেই হাঁটার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানকে কী করে চাপে রাখা যায় তার উপায় খুঁজতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে অভিযান কেন চালালো ভারত তা নিয়ে এখন বিশ্লেষকরা নানা বিশ্লেষণ হাজির করছেন। এএফপির এক প্রতিবেদনে গতকাল এমনই পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।  

পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা : এ বছর ২ জানুয়ারি পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় সাত সেনা নিহত হয়। ভারত সরকারের দাবি, পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীরাই ওই হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পাঠানকোট হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা আদতে বাস্তবায়িত হয়নি।

কাশ্মীরে বিক্ষোভ : গত ৮ জুলাই ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের তরুণ কমান্ডার বুরহান ওয়ানি ভারতীয় সেনা অভিযানে নিহত হন। ফলে উপত্যকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার সেখানে কারফিউ জারি করলেও বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরিদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৮৮ জন নিহত হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকে যে বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দুই বার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, সেই কাশ্মীর নিয়ে উভয় দেশের বাগ্যুদ্ধ আবার তেতে ওঠে।

উরি সেনা ক্যাম্পে হামলা : কাশ্মীরে বিক্ষোভ আন্দোলনের মধ্যেই রাজ্যটির উরিতে ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জঙ্গি হামলায় ১৯ সেনা নিহত হয়। আগের মতো এ হামলার জন্যও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করে ভারত। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে মোদির অঙ্গীকারের পাশাপাশি শুরু হয় পাকিস্তানকে একঘরে করার চেষ্টা। কিন্তু পরিস্থিতি এবার আরো খারাপের দিকে গড়ায়।  

জনগণের চাপ : উরির ঘটনার পর ভারতীয় জনগণের দিক থেকে তো বটেই, এমনকি মোদির ওপর তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। দিল্লিভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভের চেয়ারম্যান মোহন গোস্বামীও সে কথাই জানান।

আন্তর্জাতিক মহলের মন্তব্য : নিজ দেশে জনমত তো আছেই, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের সুবিধাজনক অবস্থান দেশটিকে পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর আরো খানিকটা এগিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষক মহলের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ভারতকে অভয় জুগিয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অশোক মালিকের অভিমত, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাও ভারতকে সুবিধা দিচ্ছে।

সব কিছু মিলিয়ে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর এবার আবারও দুই পক্ষের সম্মুখ সমরের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যে ভারত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় অভিযান চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটা পরমাণু যুদ্ধে রূপ নেয় কি না, সেটাই বিশ্লেষকদের অন্যতম আশঙ্কার জায়গা। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য