kalerkantho


কাশ্মীর সীমান্ত

ভারতের টুকরো অভিযান থেকে যুদ্ধ বাধারও শঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের টুকরো অভিযান থেকে যুদ্ধ বাধারও শঙ্কা

কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার ভারতীয় অংশে বারাস চৌকিতে গতকাল ভারতীয় সেনাদের সতর্ক প্রহরা। আগের রাতে ভারতের সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে অভিযান চালায়। ছবি : এএফপি

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনাছাউনিতে জঙ্গি হামলা এবং ১৮ সেনা সদস্যের নিহত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন চলছে, যেকোনো সময় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ঢুকে ভারতীয় সেনারা সার্জিক্যাল অপারেশন শুরু করলে সে গুঞ্জনের পালে আরো হাওয়া লাগে।

কিন্তু সত্যিই কি দুই দেশ যুদ্ধে জড়াবে? সামরিক সক্ষমতার হিসাবে ভারত এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের হাতেও আছে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র! এসব কি বিবেচনায় নেবে না দিল্লি? 

ভারতীয় সরকার এ নিয়ে আসলে কী ভাবছে, সেটা যেহেতু বাইরের কারো জানা নেই, তবু বিশ্লেষকরা ধারণা করছিলেন, ভারত ন্যূনতম যে ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটা হলো সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালানো; এর চেয়ে বেশি যেটা হতে পারে, পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় তীব্র নজরদারি এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানের এলাকায় ঢুকে গিয়ে টুকরো অভিযান। এ ছাড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে পাকিস্তানে যেসব জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে, সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে সেসব টার্গেটে আঘাত হানা এবং সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতি-আক্রমণের জন্য তৈরি থাকা।   বলা বাহুল্য, এই তৃতীয় বিকল্প যেকোনো সময় যে দুই দেশের প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘর্ষে বদলে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনাও প্রবল। যে কারণে সমর বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারতকে খুব সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের এই ধারণারই প্রতিফলন ঘটল বুধবার রাতে পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় ঢুকে ভারতের সার্জিক্যাল অপারেশনে। এ থেকে বড় সংঘর্ষ বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বেধে যাবে কি না সে আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দুই দেশের সামরিক ক্ষমতার একটা তুলনা দেখা যাক। পাকিস্তানের হাতে পাঁচ ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আছে। সব কটিই পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।

সবচেয়ে স্বল্প পাল্লার হলো ‘নাসের’, যা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে গিয়ে আঘাত করতে পারে। আর সর্বোচ্চ পাল্লার পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র ‘শাহিন-৩’, যার আঘাতের ক্ষমতা দুই হাজার ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অন্যদিকে ভারতেরও আছে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম পাঁচ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। সবচেয়ে কম পাল্লার হলো ‘পৃথ্বী’, যার পাল্লা  ১৫০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার। সবচেয়ে দূরপাল্লার ‘অগ্নি-৫’, যার পাল্লা পাঁচ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ক্ষমতা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের সময় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে নাসেরের মতো স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষত সীমান্ত এলাকায় অনেক সময় একটা হাতির চেয়ে এক ঝাঁক মশার বিক্রম বেশি হয়, ঠিক সে রকম।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যাও ভারতের চেয়ে  কিছু বেশি। ভারতের আছে ৯০ থেকে ১১০টি পরমাণু অস্ত্র, সেখানে পাকিস্তানের ১০০ থেকে ১২০টি। এর বাইরে, ভারতের সামরিক ক্ষমতা প্রতিটি ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি। মোট সৈন্যসংখ্যায়, ট্যাংক, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানের সংখ্যায় ভারতই এগিয়ে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর ক্ষমতায়। পাকিস্তানের চেয়ে বেশি যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ তো বটেই, ভারতের আছে সুবিশাল বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, যা নৌ যুদ্ধে এবং সামগ্রিকভাবে ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। এবং ভয়টা সেখানেই, বলছেন সমরকৌশল বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান যখন ক্ষমতায় পারবে না, যুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়বে, তখন হাত চলে যেতে পারে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের বোতামে। ভারত সেই ভয় পাচ্ছে এবং পাকিস্তান সেটা জানে, ফলে তারাও হুংকার ছাড়তে পিছপা হচ্ছে না।

কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। ভারতের নাগরিকদের এক বড় অংশের মধ্যে যুদ্ধের জিগির উঠেছে। উরি হামলার পরই এক হিন্দুত্ববাদী নেতা আওয়াজ তোলেন, দাঁতের বদলে দাঁত নয়, পুরো চোয়ালটা খুলে নিতে হবে! এমনিতে সেনাবাহিনী সব সময়ই আলাপ-আলোচনার কূটনীতি নয়, মারের বদলা মারে বিশ্বাসী। উরি সেনাছাউনিতে ১৮ জন সহযোদ্ধার মৃত্যু তাদের ক্রুদ্ধ করেছে। বর্তমান সামাজিক  নেটওয়ার্কিংয়ের যুগে নানা ধরনের বানানো খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কাশ্মীর সীমান্তে নাকি শয়ে শয়ে ট্যাংক পাঠাচ্ছে সেনাবাহিনী, যেকোনো দিন প্রত্যাঘাত শুরু হবে। এমনও শোনা গেল, পাকিস্তানে ঢুকে গিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী নাকি বেশ কিছু জঙ্গিকে খতম করে বিজয়গর্বে দেশে ফিরে এসেছে! সূত্র : দ্য হিন্দু, ডয়েচে ভেলে।


মন্তব্য