kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন

পাকিস্তানে পুলিশ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানে পুলিশ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালায়

পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইনবহির্ভূত গ্রেপ্তার এবং বন্দিদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পুলিশ বাহিনী সুবিধাবঞ্চিত উল্লেখ করে এ বাহিনীতে জরুরি সংস্কারের সুপারিশ করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতকাল সোমবার পাকিস্তান পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে সুপারিশ উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৩০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৫০ ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত শরণার্থী, দরিদ্র, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভূমিহীনরা পুলিশি নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পুলিশের অত্যাচারের বিভিন্ন ধরনের মধ্যে রয়েছে বন্দিকে লাঠি ও চাবুক দিয়ে পেটানো, স্ট্রেচিং, রডের আঘাতে পা ভেঙে ফেলা, যৌন সহিংসতা, ঘুমাতে না দেওয়া, অন্যের ওপর অত্যাচার চালিয়ে সেটা দেখতে বাধ্য করাসহ নানা রকম মানসিক চাপ তৈরি করা। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, পেশাগত তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রশিক্ষণ তাঁদের দেওয়া হয় না। ফরেনসিক বিশ্লেষক পদ্ধতিও তাঁদের অজানা। ফলে তথ্য উদ্ধারে এবং স্বীকারোক্তি আদায়ে তাঁরা বন্দির ওপর আইনবিরুদ্ধ আচরণ করেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো জানায়, গত বছর তারা পাকিস্তানে দুই হাজারের বেশি এনকাউন্টারের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করেছে। দেশের বৃহত্তম শহর করাচিতে এনকাউন্টারের সংখ্যা ২০১৩ সালের চেয়ে বেড়েছে। এনকাউন্টারগুলোর বেশির ভাগই সাজানো ধারণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়, প্রায় ক্ষেত্রেই পুলিশ ক্ষমতাবান ব্যক্তির দাসে পরিণত হয়ে এসব কাজ করে এবং ওই ব্যক্তি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইনকে পরাভূত করে। এ ছাড়া রাজনীতিকদের সঙ্গে বন্দির যোগাসাজশ থাকলে সহজেই সে পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায়। অন্যদিকে জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশকে সব সময় অপহৃত হওয়ার ঝুঁকির মুখে থাকতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির এশিয়া অংশের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘পাকিস্তান মারাত্মক নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। মানবাধিকারের প্রতি সম্মানবোধ ও জবাবদিহিতাসম্পন্ন পুলিশ বাহিনী গঠন করাটা সমাধানের সর্বোত্তম উপায়। সেটা না করে অসন্তুষ্ট, নীতিভ্রষ্ট, শ্লথ গতিসম্পন্ন পুলিশ বাহিনীর হাতে আইন প্রয়োগের ভার ছেড়ে দিয়ে রাখার কারণে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া এই বাহিনী পাকিস্তানকে আরো সুরক্ষিত করার পরিবর্তে আরো অনিরাপদ করে তুলছে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য