kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর হামলা

সৌদিবিরোধী বিলে ভেটো দিলেন ওবামা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সৌদিবিরোধী বিলে ভেটো দিলেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর হামলায় নিহতদের স্বজনদের সৌদি আরবের সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকারসংক্রান্ত একটি বিলে শুক্রবার ভেটো দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামার এ পদক্ষেপ জনমনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

একই সঙ্গে কংগ্রেস এই ভেটো নাকচ করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে পার্লামেন্ট কংগ্রেসে ওই বিলটি পাস হয়। এতে ৯/১১-এর হামলায় নিহতদের স্বজনদের সৌদি আরব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। বিলটি পরে প্রেসিডেন্ট ওবামার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ওবামা শুক্রবার সেটিতে ভেটো দেন। ওই হামলায় প্রাণ হারানোদের স্বজনদের প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ দেখিয়ে ওবামা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিল কল্যাণকর হবে না। ’ এই বিল প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনার জন্য কংগ্রেসকে বাধ্য করতে বহুদিন থেকেই চেষ্টা করছিল হোয়াইট হাউস। তবে সফল হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ৯/১১-এ স্বামীকে হারানো টেরি স্ট্রাডা। তিনি বলেন, ‘ওবামার সিদ্ধান্তে আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। কংগ্রেস যেন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় তার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাব। ’

এ ঘটনায় ওবামাকে সমালোচনার সুযোগ হাতছাড়া করেননি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা নিহতদের মা-বাবা, স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তানদের এক দুঃখজনক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি টানার বিষয়টি আটকে দিলেন। খুব দুর্ভাগ্যজনক। আমি প্রেসিডেন্ট হলে এই বিলে স্বাক্ষর করব। ’ এ বিষয়ে অবশ্য তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনেরও মত বিলের পক্ষে। তাঁর এক সহযোগী জানিয়েছেন, বিলে সই করার সিদ্ধান্ত হিলারিও নিয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় তিন হাজার লোক নিহত হয়। হামলাকারী ছিল মোট ২২ জন। এর মধ্যে ১৯ জনই সৌদি নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে এই ঘটনায় সৌদি সরকারেরও মদদ ছিল। যদিও এর কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। কিছু বিষয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র।

নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং ওবামার ঘনিষ্ঠ সহযোগী চাক শুমার বলেন, ‘হতাশাব্যঞ্জক সিদ্ধান্ত। সৌদি আরব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হলে এই আইনের কারণে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর যদি জড়িত হয় তাহলে তাদের অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত। ’ বিলটি নিয়ে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বেশ তীব্র। রিয়াদ বিলটি বাতিল করার জন্য লবিং করে আসছে গোড়া থেকেই। সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ যুবরাজ এমন অবস্থানও নিয়েছেন যে বিল পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরবের শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ ফেরত আনা হবে। তবে অতি সম্প্রতি এ নিয়ে রিয়াদকে আর উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়নি। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য