kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতীয় হাইকোর্টের রায়

গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল নারীদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অন্তঃসত্ত্বারা চাইলে যেকোনো কারণে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নারীদের মৌলিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই রায় দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট।

আদালতের মতে, একজন নারীর গর্ভে সন্তান এলে তাতে তাঁর শরীরের পাশাপাশি মনের ওপরও গভীর প্রভাব পড়ে। কাজেই তাঁর গর্ভাবস্থাকে তিনি কিভাবে সামলাবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু তাঁরই।

বিচারপতি ভিকে তাহিলরামানি ও মৃদুলা ভাটকরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার বলেন, মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগনেন্সি অ্যাক্টের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি যেসব নারী তাঁদের সঙ্গীদের সঙ্গে লিভ-ইন করেন, তাঁরাও এই আইনের সুবিধা ভোগ করবেন।

ভারতের বর্তমান আইনে নারীরা ১২ সপ্তাহের কম প্রেগনেন্সিতে গর্ভপাত করাতে পারেন। ১২-২০ সপ্তাহের মধ্যে প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে গর্ভপাত করাতে হলে দুজন ডাক্তারের সম্মতির প্রয়োজন। আদালত জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যদি অন্তঃসত্ত্বা বা তাঁর ভ্রূণের কোনো ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকা সত্ত্বেও গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া উচিত।

আদালতের মতে, ‘অন্তঃসত্ত্বার নিজের শরীর ও গর্ভধারণের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর মাতৃত্বের ইচ্ছের ব্যাপারটা একেবারেই সংশ্লিষ্ট নারীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। এটা নারীদের মৌলিক অধিকার। সমাজে সম্মান নিয়ে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকারের আওতাতেই এই অধিকারও পড়ে। ’ একজন নারীকে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া না হলে, তা তাঁর মনের ওপর গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করবে বলে মত দিয়েছে হাইকোর্ট।

একটি সুয়োমোটো মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বম্বে হাইকোর্ট। ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, অনেক সময়ই জেলবন্দি অন্তঃসত্ত্বারা গর্ভপাতের ইচ্ছের কথা জানালেও তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় না। সূত্র : দ্য হিন্দু।


মন্তব্য