kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক সোমবার

হিলারির জোর প্রস্তুতি মাথাব্যথা কম ট্রাম্পের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হিলারির জোর প্রস্তুতি মাথাব্যথা কম ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম দিকে ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন যতখানি স্বস্তি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটা উবে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সংস্থার জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবধান ক্রমে কমতে থাকার কারণেই হিলারি শিবিরে চিন্তার ছাপ পড়ছে।

এরই মধ্যে আগামী সোমবার এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রথমবারের মতো নির্বাচনপূর্ব বিতর্কে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

নিউ ইয়র্কের হেম্পস্টেডে হফস্টার ইউনিভার্সিটিতে দেড় ঘণ্টার মুখোমুখি লড়াইয়ে অংশ নেবেন হিলারি ও ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে অনুষ্ঠেয় তিনটি বিতর্কের মধ্যে এটিই প্রথম। বলা বাহুল্য, সব কটি বিতর্ক তাঁদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, বিতর্কে প্রার্থীর উপস্থাপনায় ন্যূনতম দুর্বলতা তার আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিতে পারে। না বললেই নয়, রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত জরিপ অনুসারে ভোটারদের মধ্যে ২০ শতাংশ এখনো কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে মনস্থির করেনি। গত নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার এই সময় আগে এ হার ছিল ১২ শতাংশ। সুতরাং দোদুল্যমান মনোভাবের এই ভোটারদের দলে ভেড়ানোর জন্য আসন্ন বিতর্কে নিজেদের সেরা উপস্থাপনা তুলে ধরাটা হতে পারে হিলারি ও ট্রাম্পের জন্য বিরাট সুযোগ।

সোমবারের সুযোগটা শতভাগ কাজে লাগাতে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছেন হিলারি। বিতর্কের আগের পুরো সপ্তাহটাই তিনি অনুশীলনে ব্যয় করছেন। প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য সব আচরণ মাথায় রেখেই চলছে তাঁর অনুশীলন। হিলারির ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা জেনিফার পালমিয়েরি বলেন, ‘ট্রাম্প কোন রূপে আবির্ভূত হবেন, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারেন কিংবা নিরুদ্বিগ্ন আচরণ করতে পারেন। এটা আগে থেকে বোঝা কঠিন। সুতরাং আমি বলব, হিলারি কী বক্তব্য তুলে ধরতে চান, সেদিকেই তাঁর বেশি নজর দেওয়া উচিত। ’

স্বভাবসুলভ বেসামাল বাচনভঙ্গি পরিহার করে নিজেকে গোছানোর চেষ্টায় ব্যস্ত ট্রাম্প অবশ্য হিলারির বিপরীতে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী নন, এমনটা জানিয়েছে এক রিপাবলিকান সূত্র। আরো জানা গেছে, কমবেশি যেটুকু অনুশীলন তিনি করছেন, তাতে তালিম দিচ্ছেন ফক্স নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী রজার এইলস। সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জুড গ্রেগ অবশ্য ট্রাম্পের প্রতি সতর্কবাণী দিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই যে তিনি (ট্রাম্প) প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়া বিতর্কে নামাটা হবে বোকামি। ’ এ ছাড়া কারো নামের সঙ্গে অপমানসূচক উপাধি জুড়ে দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং অসম্মান করে কথা বলার যে অভ্যাস ট্রাম্পের রয়েছে, সেটি পরিহার করার পরামর্শও দিয়েছেন আরেক সাবেক রিপাবলিকান পার্লামেন্ট সদস্য রিক লাজিও।

প্রস্তুতির অভাবে কী ঘটতে পারে, সেটা বোঝাতে গিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের বিতর্কবিষয়ক প্রশিক্ষক ব্রেট ও’ডোনেল জানান, ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী রিপাবলিকান বুশ প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জন কেরির বিরুদ্ধে প্রথম বিতর্কে জোরালো প্রস্তুতি নেননি। ফলটাও হাতেনাতেই পাওয়া গেছে। বিতর্কে নেমে বারবার খাবি খাচ্ছিলেন বুশ। আর বিতর্কে জয় পান কেরি। সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য