kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন

উরি সেনাক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উরি সেনাক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজ্যের বান্দিপোরা জেলার আরাগামে ভারতীয় সেনাঘাঁটির পাশের এই ছবি গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

কাশ্মীরে উরির সেনাছাউনির নিরাপত্তাব্যবস্থায় গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর। দিল্লিতে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে উরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোথাও তো ভুল-ত্রুটি ছিল।

আমি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। কারণ এটি সংবেদনশীল বিষয়। ’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘যখন কোনো কিছুতে ভুল হয়, তখন সবারই লক্ষ্য থাকে যাতে সেটা দ্বিতীয়বার না হয়। কোথায় ভুল হয়েছে, তা প্রথমে খুঁজে বের করব। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়। ’

উরির ঘটনার তদন্তে নেমে শুরু থেকেই গোয়েন্দারা মনে করছে, অন্তর্ঘাতের কারণেই কার্যত বিনা প্রতিরোধে জঙ্গিরা ভেতরে ঢুকতে পেরেছিল। ছাউনিতে থাকে বা যাতায়াত করে এমন কেউ সাহায্য করেছে জঙ্গিদের। সেই সাহায্যকারী কে বা কারা তার খোঁজ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সেনাছাউনির পেছনের দিকে দুটি জায়গায় লোহার তারজালি কেটে ভেতরে ঢুকেছিল চার জঙ্গি। এরপর কিভাবে ১৫০ মিটার ভেতরে কোনো বাধা ছাড়াই ঢুকে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সেদিন ছাউনিতে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষীদের কাবু করে একেবারে বেছে বেছে হামলা চালায় জঙ্গিরা। অফিসারদের মেস ছাড়াও অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা সেনা সদস্যরা ছিলেন মূল নিশানা। যাতে তাঁরা তাঁবুর বাইরে বের হতে না পারেন, সে জন্য পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড ছুড়ে ডিজেল ভাণ্ডারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জঙ্গিদের রক্তের নমুনা ও ডিএনএ স্যাম্পল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের কাছ থেকে যেসব কালাশনিকভ উদ্ধার হয়েছে, তা কোন দেশে বানানো সেই ছাপ অনুপস্থিত বলে জানিয়েছে এনআইএ। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, ওই ছাপ ঘষে তুলে দেওয়া হয় যাতে পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলা না যায়। তবে জঙ্গিদের থেকে উদ্ধার হওয়া খাবার, ওষুধ, সিরিঞ্জ পাকিস্তানে তৈরি। পাঠানকোট, উধমপুর আর উরি—সব কটি জঙ্গি হামলায়ই জঙ্গিরা একই ধরনের কিট ব্যবহার করছে বলে দেখা গেছে। জঙ্গিদের থেকে যে হ্যান্ডসেটটি পাওয়া গেছে সে ধরনের একটি হ্যান্ডসেট গত জুলাই মাসে ধৃত জঙ্গি বাহাদুর আলীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার কন্ট্রোল রুম আলফা-থ্রির সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

এই তথ্য-প্রমাণের বিষয়ে কথা বলতে গতকাল ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আবদুল বাসিতকে ডেকে পাঠান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তান কিভাবে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে সেই তথ্য তুলে ধরা হয় বাসিতের কাছে। জয়শঙ্কর বাসিতকে জানান, উরির হামলায় সন্ত্রাসবাদীদের শরীর থেকে উদ্ধার হওয়া জিপিএস থেকে কোথায়, কোন সময় তারা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ঢুকেছে, তা জানা গেছে। তাদের ব্যবহূত গ্রেনেড, কমিউনিকেশন ম্যাট্রিকস, খাবার, ওষুধ ও জামাকাপড়ে পাকিস্তানের ছাপ উদ্ধার হয়েছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসের তদন্ত করতে চাইলে ভারত উরি ও পুঞ্চে নিহত জঙ্গিদের আঙুলের ছাপ, ডিএনএ নমুনা তাদের হাতে তুলে দিতে পারে।

পাকিস্তানকে কিভাবে জবাব দেওয়া হবে তা নিয়ে গতকাল ভারতের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি আলোচনায় বসে। সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য