kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের শার্লটে জরুরি অবস্থা জারি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল গার্ড ও অঙ্গরাজ্য ট্রুপার নামানো হয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের শার্লটে জরুরি অবস্থা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরে পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহতের প্রতিবাদে জরুরি অবস্থার মধ্যেই বিক্ষোভ করে সেখানকার মানুষ। ঘটনার দ্বিতীয় দিন বুধবার তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের শার্লট শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার জেরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর প্যাট ম্যাকক্রোরি জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ জানমালের প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরটিতে ন্যাশনাল গার্ড ও অঙ্গরাজ্য ট্রুপার পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া আহত এক পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শার্লটে গত মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে ৪৩ বছর বয়সী কিথ ল্যামন্ট স্কট নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হন। ঘটনার পর শহরের রাস্তায় নেমে লোকজন বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করে। এতে পরিস্থিতি আরো গোলযোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিথ স্কট যে জায়গাটিতে নিহত হয়েছিলেন সেই জায়গাকে কেন্দ্র করেই বিশৃঙ্খলা ছড়ায়।

পুলিশ দাবি করেছে, কিট স্কটের কাছে একটি পিস্তল ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের আদেশ সত্ত্ব্বেও তিনি পিস্তল ফেলে দিতে রাজি হননি। কিন্তু স্কটের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তাঁর হাতে একটি বই ছিল, আগ্নেয়াস্ত্র নয়। ঘটনার কোনো ভিডিও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ, তবে শহরটির মেয়র জানান, তাঁরা ভিডিও প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, বোতল ছুড়ে মারে, আগুন জ্বালায় এবং অল্প সময়ের জন্য একটি আন্তরাজ্য মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। নগর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা টুইটার বার্তায় দাবি করে, এক বেসামরিক লোক অন্য একজনকে লক্ষ্য করে গুলিটি ছুড়েছিল, পুলিশ ছোড়েনি। মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে সংঘর্ষে ১৬ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। সংবাদ মাধ্যম জানায়, বুধবার রাতে বিশৃঙ্খল প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছিল।

নগর পুলিশের প্রধান কার পাটনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা জড়ো হওয়াদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছি। অনেক ধৈর্য ধরে ছিলাম, কিন্তু তারা এখন খুব আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, আমার কার্যালয়ের দিকে বোতল ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে মারছে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সময় হয়েছে। ’

সংবাদ মাধ্যম আরো জানায়, শার্লটের এই ঘটনার একই সময়ে ওকলাহোমার টুলসায়ও একই ধরনের একটি ঘটনায় হত্যাকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগের সর্বশেষ ঘটনা এসব হত্যাকাণ্ড। দেশটির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিষয়টি একটি জাতীয় বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিফোনে শার্লট ও টুলসার মেয়রদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সূত্র : ফক্স নিউজ, বিবিসি, এএফপি।

 


মন্তব্য