kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলা

ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি চুক্তি

সিরিয়ার কারম আল-জাবালের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলায় বহু ভবন গুঁড়িয়ে গেছে। গত রবিবার তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এ চুক্তির আর কার্যকারিতা নেই।

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আল-জোর শহরে সরকারি বাহিনীর ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার পরই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল চুক্তিটি। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ওই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই হামলা মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকেই সুবিধা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে ওই চুক্তি আসলে ‘অর্থহীন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পক্ষে চুক্তি মানা অসম্ভব হবে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ার ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে চারটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে এটি প্রথম হামলা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানালেও কারা এ হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি অবজারভেটরি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সায় দেয় প্রেসিডেন্ট আল আসাদের সরকার। চুক্তি মতে, আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্ট জঙ্গিদের দমনে ওয়াশিংটন ও মস্কোর একটি যৌথ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার কথা হয়। দুই দেশ সম্মত হয় যে সিরিয়ার সরকারবিরোধী গোষ্ঠীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘাঁটিতে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। গত সোমবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর শুরু হয়। চুক্তির ফলে সিরিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা করছিল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। কিন্তু সপ্তাহ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আর তা নিয়ে রাশিয়ার আঙুল তোলা জটিলতা আরো বাড়িয়ে দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায়। হামলায় সিরিয়ার অন্তত ৮০ সেনা নিহত হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়ার বিদ্রোহীরাও সরকারি অবস্থানে হামলা চালায়।

গতকাল সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানায়, সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিদ্রোহীরা ওই চুক্তির একটি শর্তও পালন করেনি।

এর আগে গতকাল সোমবার দামেস্কে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন জাবেরি আনসারির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কালে আসাদ বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাঁর বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দেশটির ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’। এর মাধ্যমে মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেইর আল-জোরে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি অবস্থানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ স্পষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে দায়েশই (আইএসের আরবি নাম) লাভবান হচ্ছে। ”

সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও বিদ্রোহীদের হামলার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে এখন অর্থহীন বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই রুদস্কয় গতকাল টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, “বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিরতির চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না। আমাদের মতে, এ অবস্থায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পক্ষে একপক্ষীয়ভাবে ওই চুক্তিকে সম্মান দেখানো হবে ‘অর্থহীন’। ” অনদিকে, দামেস্কের সামরিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, চুক্তির সময়সীমা আর না বাড়ানো হলে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর চুক্তিটি আর কার্যকর থাকছে না। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য