kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা’

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বলেছেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাঁর দেশ। গতকাল রবিবার জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৭তম শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।

এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন মাদুরোর আঞ্চলিক মিত্র কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো।

ভেনিজুয়েলার মার্গারিতা দ্বীপে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ন্যাম শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়। তবে সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য সদস্য দেশগুলোর নেতাদের অনুপস্থিতি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ১২০ জাতির এ সংস্থার মাত্র ২২টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবারের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, যাতে ভারতসহ উল্লেখযোগ্য দেশের রাষ্ট্র অথবা সরকারপ্রধানরা অংশ নেননি।

সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, এবারের সম্মেলন ভেনিজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রতি সংহতি জানাবেন জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর নেতারা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রত্যাশা, তিনি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তাঁর ‘ক্যাম্পেইনে’র পক্ষে সমর্থন পাবেন। তবে বিশ্বনেতাদের অনুপস্থিতি সম্মেলনের সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিশ্বে বৃহত্তম তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনিজুয়েলা। দেশটি চাচ্ছে অশোধিত তেলের উৎপাদন কমিয়ে তেলের দাম বাড়াতে। কারণ, তেলের দাম পড়ে যাওয়ার ফলে দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত। তিন বছর ধরে দেশটিতে মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ নিয়ে মাদুরো সরকারের পতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছে সরকারবিরোধীরা। সর্বশেষ গত শুক্রবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে ভেনিজুয়েলাজুড়ে।

সম্মেলনে অর্থনৈতিক যুদ্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি কিউবার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। গতকাল ইরানের কাছ থেকে ন্যামের প্রেসিডেন্সি পদ ভেনিজুয়েলার কাছে হস্তান্তরের পর মাদুরো তাঁর ভাষণে বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা প্রচণ্ড আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এই যুদ্ধ অন্য লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে। আমাদের ওপর আরোপিত এই যুদ্ধ আমাদের দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আমাদের জীবনকে পুনঃঔপনিবেশিকতায় আবদ্ধ (রি-কলনাইজ) করতে চায়।

সম্মেলনে মাদুরোর তেলের দাম বৃদ্ধির ক্যাম্পেইনে সমর্থন ব্যক্ত করেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া। ওপেকের ক্ষুদ্রতম এ সদস্য দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তেলের বাজারে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের কারণে তেলচুক্তি ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্পষ্টভাবেই ওপেক দুর্বল হয়ে গেছে। এর সংহতি নিয়েও বিপদ আছে। ’

মাদুরো অভিযোগ সমর্থনকারী কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো হাভানার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অবসান নিয়েও নিজের শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতা ও নাক গলানোর কারণে আঞ্চলিক জোটগুলো পথ হারাচ্ছে। তিনি এর বিস্তারিত কিছু বলেননি। সম্মেলনে কাস্ত্রো, মাদুরো, কোরেয়া ও বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস সম্প্রতি ব্রাজিলে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফের অভিশংসনের নিন্দা জানান। সূত্র : এএফপি, টকভিয়েতনাম।


মন্তব্য