kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আগে টয়লেট পরে হেলিকপ্টার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের বহু গ্রামে এখনো অনেকের বাড়িতে যে টয়লেট নেই এবং প্রাকৃতিক কাজ সারা হয় খোলা মাঠে—এ খবর নতুন নয়। কিন্তু টয়লেট না বানিয়ে যখন কেউ হেলিকপ্টার ভাড়া করার মতো শখ করতে পারে, তখন সেটা সত্যিই সাড়া জাগানো খবর হয়।

মধ্য প্রদেশের সিহোর জেলার এক বিত্তবানের শখ হয়েছিল ছেলে হেলিকপ্টারে চেপে বিয়ে করতে যাবেন বরযাত্রী নিয়ে। এরপর বউ নিয়ে ফিরবেনও হেলিকপ্টারে। যদিও পাত্রী থাকেন পাশের গ্রামেই!

আজমতনগর গ্রামের বাসিন্দা সুরজ সিং গুর্জর তাঁর ছেলে নেম সিংয়ের বিয়ের জন্য ভাড়া করতে চেয়েছিলেন হেলিকপ্টার। নিয়মমতো প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছিলেন। এ ধরনের অনুমতি দেওয়ার আগে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন গুর্জরের বাড়ি। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, গুর্জরের বাড়িতে শৌচাগারই নেই অথচ শখ হয়েছে হেলিকপ্টার ভাড়া করার।

স্থানীয় তহসিলদার কুলদীপ দুবে জানিয়ে দেন, আগে বাড়িতে শৌচাগার তৈরি করুন, এরপর হেলিকপ্টারের জন্য আবেদন করবেন। শৌচাগার তৈরি না হলে হেলিকপ্টারের অনুমতি মিলবে না।

গুর্জর যেহেতু হেলিকপ্টার ভাড়া করতে চেয়েছেন, সেহেতু তাঁর আর্থিক অবস্থা যে খুবই ভালো সেটাই স্বাভাবিক। কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, গুর্জর সিংয়ের পরিবারের নাম দারিদ্র্য রেখার নিচে (বিপিএল) থাকা মানুষের তালিকাতেও আছে। অর্থাৎ তারা রেশন থেকে শুরু করে নানা সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকে, ভর্তুকিও পায়।

একদিকে হেলিকপ্টারে চাপিয়ে বরবেশে ছেলেকে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল হতে বসেছিল, অন্যদিকে দারিদ্র্য রেখার নিচের তালিকায় কী করে একজন ধনী ব্যক্তির নাম থাকে, তা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েন গুর্জর। সিহোরের জেলা প্রশাসক সুদাম খাড়ে বলেন, ‘চাপে পড়ে ওই ব্যক্তি রাতারাতি শৌচাগার বানিয়ে নিয়েছেন। এরপর নতুন করে আবেদন করেছিলেন তিনি, আমরা অনুমতিও দিয়ে দিয়েছি। তবে বিপিএল তালিকায় কিভাবে ওই ধনী পরিবারের নাম এলো, তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ’

ভারত সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি বাড়ি টয়লেট তৈরিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০১৯ সালের মধ্যে সব বাড়িতে টয়লেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভোরবেলা বেরিয়ে গ্রামের মাঠেঘাটে ঘুরছেন। কাউকে মাঠে শৌচকর্ম করতে দেখলেই নানা ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কখনো হাতে গোলাপ ফুল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও হাতে কোদাল দিয়ে মাটি চাপা দিতে বলা হচ্ছে, কোথাও ছবিসহ নামের তালিকা গ্রামে টাঙিয়ে দিয়ে অপমান করার ভয় দেখানো হচ্ছে।

এতে অনেকে বাড়িতে শৌচাগার বানাচ্ছে ঠিকই, তবে মাঠে গিয়ে প্রাতঃকৃত্যের অভ্যাস এখনো অনেকেই ছাড়তে পারছে না। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য