kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিয়া সংকট

রুশ-মার্কিন দোষারোপের খেলায় অবস্থা সঙ্গিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রুশ-মার্কিন দোষারোপের খেলায় অবস্থা সঙ্গিন

গৃহযুদ্ধপীড়িত সিরিয়ায় শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার কোনো চেষ্টাই কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন দফায় দফায় বৈঠকের পর বিশ্বের অন্যতম এ দুই শক্তি কোনো রকমে একটা ঐকমত্যে পৌঁছলেও এর কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় তারা পরস্পরকে দুষে চলেছে।

মাঝখানে পড়ে সিরিয়ার অবরুদ্ধ জনগণ এখনো মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বাড়ছে জটিলতা। ফলে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ অধিবেশনে সিরিয়া ইস্যুই প্রাধান্য পাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালাবে, সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সমঝোতার ব্যবস্থা করবে, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিয়ার অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে—এমন আরো অনেক বিষয় রয়েছে মার্কিন-রুশ চুক্তিতে। গত সোমবার থেকে তা কার্যকর ঘোষণা করা হয়, যার মেয়াদ গত শুক্রবারই শেষ হয়ে গেছে। রাশিয়া জানায়, তারা চুক্তির মেয়াদ ৭২ ঘণ্টা বাড়াতে রাজি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই শুক্রবার বিমান হামলায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। এ ছাড়া সিরিয়া সীমান্তে আটকে আছে আলেপ্পোগামী জাতিসংঘের ত্রাণবহর। এর জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘মানবিক সহায়তা পৌঁছতে বারবার দেরি হচ্ছে এবং এটা অগ্রহণযোগ্য। ’ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াশিংটন আশা করে, আলেপ্পোসহ অন্যান্য যেসব এলাকায় দরকার, সেসব জায়গায় জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার বহর পৌঁছাতে সিরিয়ার আসাদ সরকার যেন অনুমোদন দেয়, এ ব্যাপারে রাশিয়া তাদের প্রভাব খাটাবে। ’ বলা দরকার, পশ্চিমাদের উপেক্ষা করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন ও সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। অন্যদিকে আসাদবিরোধীদের পক্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আলেপ্পোতে সহায়তা পৌঁছতে না পারার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির দাবি, সরকার ত্রাণবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই কালক্ষেপণ ঘটছে।

সিরিয়া চুক্তির কার্যকারিতার ব্যর্থতা নিয়ে পরস্পরের ওপর দোষারোপ তো আছেই। এর মধ্যে ওই চুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া চুক্তি অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার নিউ ইয়র্কে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে কি হবে না এ নিয়ে মতান্তরের কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করে জাতিসংঘ। কেননা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমোদনের আগে তাঁরা চুক্তির বিস্তারিত জানতে চান। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখানোয় শেষ পর্যন্ত জরুরি বৈঠকটি বাতিল করা হয়। ফলে আগামী বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়া চুক্তি অনুমোদন পাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দিহান।

মতবিরোধ পেরিয়ে সিরিয়া চুক্তি নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন যদি পেয়েও যায়, তবু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আশা দেখছে না সিরীয় বিদ্রোহীরা। গতকাল শনিবার বিদ্রোহী পক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে আমরা আগেই সতর্ক করেছি, এ চুক্তি টিকবে না। ’ তাঁর অভিমত, চুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যারা মরিয়া, সেই সিরীয়দের ওপর বিমান হামলা চলবে, আবার চুক্তির আলোচনাও চলবে, আরেক দিকে আমেরিকা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাবে, এভাবে চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন অন্য কথা। কিরগিজস্তান সফরকালে গতকাল তিনি এক টেলিভিশন বক্তৃতায় দাবি করেন, কোনোমতে টিকে থাকা চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিরীয় বিদ্রোহীরা আরো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহী, আইএসসহ বিভিন্ন পক্ষে বহুমুখী সংঘর্ষে গত পাঁচ বছরে সিরিয়ায় অন্তত তিন লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছে আরো কয়েক লাখ মানুষ। কোনো পক্ষই ক্ষমতা বণ্টনের সুরাহা করতে না পারায় এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য