kalerkantho


গ্রামবাসী হত্যা

মিয়ানমারে সাত সেনার সশ্রম কারাদণ্ড

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন গ্রামবাসীকে হত্যার অভিযোগে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সাত সদস্যকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সামরিক আদালতে গত বৃহস্পতিবার এ সাজা ঘোষণা করা হয়।

সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে। সাজা পাওয়া ওই সাতজনের মধ্যে চারজনই কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন সেনা শাসনে কাটানো মিয়ানমারে এ রায় বিরল ঘটনা।

মিয়ানমারে বর্তমানে বেসামরিক সরকার রয়েছে। এর আগে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সেনা শাসনে ছিল দেশটি। ওই সময়ে দেশটিতে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেনা সদস্যদের হাতে শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ছিল সাধারণ ঘটনা। অবশ্য ২০১১ সাল থেকে আধা-অসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসায় নির্যাতনের মাত্রা কিছুটা কমে। তবে সেনাবাহিনী তাদের অভ্যন্তরীণ অসদাচারণের বিষয়টি তেমন একটা স্বীকার করে না।

সেনা সদস্যদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে ফেসবুকে সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘লাসিও টাউনশিপের মং ইয়াও গ্রামের কয়েকজন নাগরিককে হত্যার দায়ে সেনাবাহিনীর সাত সদস্যকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাভোগের সঙ্গে কারাগারে তাদের প্রত্যেককে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ’

গত জুনে মং ইয়াওতে সরকারবিরোধী নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর পাঁচ গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক দিন পর গর্ত থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য গ্রামবাসীরা কর্মকর্তাদের দায়ী করে।

গত বছরও গোষ্ঠীভিত্তিক লড়াইয়ে দুজন কাচিন শিক্ষক মারা গিয়েছিলেন। মানবাধিকারকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়নি।

গত মার্চ মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের ক্ষমতা গ্রহণের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গোষ্ঠিভিত্তিক লড়াই বন্ধ করার পরিকল্পনা নেয় সরকার। তবে মিয়ানমারে শান্তির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর হাতে। ক্ষমতায় না থাকলেও সরকারের অনেকাংশ সেনাবাহিনীই নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে গত বুধবার সু চি হোয়াইট হাউস সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমারের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য