kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রেকর্ড সামরিক সহায়তার চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইসরায়েলকে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দেশকে এত বড় অঙ্কের সামরিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইসরায়েলকে ‘বিপজ্জনক প্রতিবেশীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য’ এ সহায়তা।

চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে গত ১০ মাসের আলোচনার পর গত বুধবার ওয়াশিংটনে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘বিপজ্জনক প্রতিবেশীদের থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি আশাবাদী। ’ চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বছরে ৩৮০ কোটি ডলার করে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইসরায়েলকে বছরে ৩১০ কোটি ডলার করে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে দেশটি। ইসরায়েল এই চুক্তির বাইরে অন্য কোনো সামরিক সহায়তা চাইতে পারবে না বলেও শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন অর্থ সামরিক সরঞ্জাম কেনা, মেরামত এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে ইসরায়েল। এবারই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যয় করার জন্য ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের চুক্তিগুলোতে মার্কিন কংগ্রেস পৃথকভাবে এবং বার্ষিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ দিত।

ওয়াশিংটনে আল-জাজিরার সাংবাদিক প্যাটি কুলহেইনের মতে, এই চুক্তিকে অনেক বড় পরিবর্তন মনে করার কোনো কারণ নেই। ২০১৫ বা ২০১৬ সালেও ইসরায়েল বছরে ৩১০ কোটি ডলার করে পেয়েছে। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি ডলারে। ২০১৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ৬২ কোটি ডলার দিয়েছিল ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য। বস্তুত এখনো ইসরায়েল ওই একই অঙ্কের সামরিক সহায়তা পাচ্ছে। তবে চুক্তির মাধ্যমে তার পরিমাণটা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেরুজালেমে ইসরায়েলের বার-ইলান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইফরাইম ইনবারের মতে, সমরাস্ত্র উন্নয়ন এবং যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি নবায়নের জন্য এই চুক্তিটির প্রয়োজন ছিল ইসরায়েলের। তিনি ইসরায়েলের প্রতি হুমকি হিসেবে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং গোলান মালভূমি দখলে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এই চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন অর্থ সামরিক সরঞ্জাম কেনা, মেরামত এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে ইসরায়েল। এবারই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যয় করার জন্য ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের চুক্তিগুলোতে মার্কিন কংগ্রেস পৃথকভাবে এবং বার্ষিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ দিত। সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য