kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিনেটে ডেথ স্কোয়াড সদস্যের সাক্ষ্য

মেয়র থাকাকালে এক হাজার মানুষ মেরেছেন দুতার্তে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মেয়র থাকাকালে এক হাজার মানুষ মেরেছেন দুতার্তে

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানে তিন হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুতার্তে নিজেও এসব হত্যকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে এক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালে দুতার্তের নির্দেশে এক হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিচার বিভাগের কর্মীসহ দুতার্তে বা তাঁর পরিবারের শত্রু হিসেবে পরিচিত লোকজনও ছিল। তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ডেথ স্কোয়াড এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সাক্ষ্যদাতা ব্যক্তি ওই ডেথ স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। তাঁর দেওয়া সাক্ষ্য দেশটিতে দুতার্তেবিরোধীদের সমালোচনায় রসদ জোগাচ্ছে।

সাক্ষ্যদাতা ব্যক্তির নাম এদগার মাতোবাতো। ৫৭ বছর বয়সী মাতোবাতো গতকাল পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সাক্ষ্য দেন। তাঁর দাবি, ১৯৮৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দুতার্তে যত দিন দাভাওয়ের মেয়র ছিলেন তত দিন তাঁর নির্দেশে একটি ডেথ স্কোয়াড কাজ করত এবং মাতোবাতো সেই স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালে মাতোবাতো এ স্কোয়াড ত্যাগ করতে চাইলে তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়। ২০০৯ সালে বিচার বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি ‘সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির’ আওতায় থাকলেও দুতার্তে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। স্কোয়াড ছেড়ে কেন বেরিয়ে গেছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিবেকের তাড়নায় ভুগছিলাম। ’

নিজেকে একসময়ের গুপ্তঘাতক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাতোবাতো জানান, মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে দুতার্তে অনুগত পুলিশ সদস্য এবং সাবেক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সমন্বয়ে ডেথ স্কোয়াড গঠন করেন। দুতার্তের নির্দেশে তারা প্রায় এক হাজার লোককে হত্যা করেছে। মাতোবাতো বলেন, ‘অপরাধী, ধর্ষক, মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীদের হত্যা করাই ছিল আমাদের কাজ। প্রায় প্রতিদিনই আমরা মানুষ মেরেছি। দাভাওয়ের লোকজনকে মুরগির মতো মারা হয়েছে। ’

মাতোবাতোর দাবি, হত্যাকাণ্ডের শিকার লোকজনের মধ্যে কেবল অপরাধী নয়, দুতার্তে বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের শত্রুরাও ছিল। এই যেমন—দুতার্তের সমালোচক এক সম্প্রচারমাধ্যমকর্মী, তাঁর এক স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর চার দেহরক্ষী, তাঁর ছেলে পাওলো দুতার্তের দুই শত্রু, তাঁর বোনের প্রেমিক। নিহতদের মধ্যে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা এবং এক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীও ছিল। শ্বাসরোধে, পুড়িয়ে বা দেহ টুকরো টুকরো করে লোকজনকে মারা হতো। হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় লাশ গুম করে ফেলা হতো। কারো কারো লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হতো, যেগুলো হয়ে যেত মাছের খাবার।

মাতোবাতোর বক্তব্যকে ‘স্রেফ পাগলের প্রলাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন দাভাওয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পাওলো দুতার্তে। এদিকে দুতার্তের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন। আরেক মুখপাত্র জানান, মানবাধিকার কমিশন ইতিমধ্যে এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে; কিন্তু দুতার্তের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য