kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিজয় চুম্বনের সেই নার্স মারা গেছেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিজয় চুম্বনের সেই নার্স মারা গেছেন

দিনটি ছিল ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর কাছে জাপানের আত্মসমর্পণের কথা ঘোষণা হয়ে গেছে।

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারজুড়ে বসে গেছে উৎসবের আমেজ। হঠাৎই নার্সের পোশাক পরা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর দিকে এগিয়ে যান এক নাবিক। বলিষ্ঠ হাতে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে এঁকে দেন জোরালো চুম্বন। সেই মুহূর্তটি ধরা পড়ে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার লগ্নের ছবিটি হয়ে যায় ২০ শতকের চিরস্মরণীয় মুহূর্তের এক সাক্ষী। গ্রেটা জিমার ফ্রায়েডম্যান নামের সেই নার্স ৯২ বছর বয়সে গত শনিবার মারা গেছেন।

বিখ্যাত মার্কিন ফটোগ্রাফার আলফ্রেড আইজেনস্টেডের তোলা সেই ছবির আবেদন পরে ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়। লাইফ পত্রিকায় পাতাজুড়ে সেটি ছাপা হয়। ছবিটির পাত্র-পাত্রী অবশ্য পরস্পরকে চিনতেন না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিচয় অজানা থাকে। ওই সময় অনেক নারীই দাবি করেছিলেন, ছবির তরুণী আসলে তিনি। ২০১২ সালের ‘দ্য কিসিং সেলর’ বইয়ের লেখক জর্জ গ্যাল্ডোরসি এবং লরেন্স ভেরিয়া দাবি করেন, ওই ছবির পাত্র-পাত্রী আসলে নার্স গ্রেটা ফ্রায়েডম্যান এবং জর্জ মেন্ডোসা নামের এক নাবিক। ফরেনসিক অ্যানালিসিস, ফটোগ্রাফিক ইন্টারপ্রিটেশনের সঙ্গে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়ে তাঁরা বিষয়টির প্রমাণ দেন।

গ্রেটার ছেলে জোশুয়া ফ্রায়েডম্যান জানান, তাঁর মা ভার্জিনিয়ায় নিজের বাড়িতে মারা গেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন।

‘দ্য কিসিং সেলর’ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর সেদিনের স্মৃতিচারণা করেছিলেন জর্জ মেন্ডোসা। জানিয়েছিলেন, আগস্টের ওই সন্ধ্যায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার তাড়া ছিল তাঁর। গ্রেটাকে একেবারেই চিনতেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘সেটা একটা মুহূর্ত ছিল বটে! যুদ্ধ হঠাৎই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদের মতো আমিও বেশ উত্তেজিত ছিলাম। হয়তো কয়েক পাত্তর গিলেও ছিলাম। ফলে যখন সেই নার্সকে দেখলাম, আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম আর চুমু খেলাম!’ তবে গ্রেটা নাকি প্রথমে বুঝতেই পারেননি একজন অচেনা মানুষ তাঁকে এভাবে রাস্তায় চুমু খেয়ে বসবেন। এক সাক্ষাৎকারে সে প্রসঙ্গে গ্রেটা বলেন, ‘আমি তাঁকে চুমু খাইনি। তিনিই আমাকে চুমু খেয়েছিলেন। আমি দেখতেই পাইনি কেউ এভাবে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি তাঁর আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়েছিলাম। ’

সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য