kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আসিয়ানকে স্বাধীন পথে চালাতে চান দুতার্তে

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে চলবে ফিলিপাইন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আসিয়ানকে স্বাধীন পথে চালাতে চান দুতার্তে

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজের বিতৃষ্ণা ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অনুরাগী নন। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিই হবে তাঁর দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ভিত্তি।

একই সঙ্গে তিনি চীনা বলয়ের বাইরে আসিয়ান জোটকেও একটি স্বাধীন আঞ্চলিক সত্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর লাওসে বিতর্কিত প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে ফিলোপিনো প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন। গতকাল শনিবার তিনি তাঁর নিজ শহর দাভাওতে পৌঁছার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দুতার্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ানের মূল জোটকে একটি স্বাধীন পথে পরিচালনা করা এবং বৈরী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন থেকে মুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের অনুরাগী নই। ...ফিলোপিনোদের যেকোনো মানুষের আগে থাকতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রতি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফিলিপাইন স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবে। আমি আবারও বলছি, ফিলিপাইন স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিই মেনে চলবে। ’

আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে লাওস সফরে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে দুতার্তে আলোচনার জন্ম দেন। এমনকি ওবামাকে অশিষ্ট গালিও দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুতার্তের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন ওবামা। যদিও পরে ওবামার কাছে দুতার্তে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং গালিটি ওবামাকে নয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে দিয়েছেন বলে ব্যাখ্যা দেন।

ফিলিপাইনে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েক শ মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় দুতার্তের সরকারের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। ফিলিপাইনের প্রধান সামরিক মিত্র ও ১৯৪৬ সালের আগে দেশটির ঔপনিবেশিক শাসক যুক্তরাষ্ট্র চায় ফিলোপিনো সরকার অপরাধবিরোধী যুদ্ধটি ‘সঠিক পথে’ পরিচালিত করুক, যাতে মানবাধিকার রক্ষা পায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন দুতার্তে।

অন্যদিকে চীনের সঙ্গেও দুতার্তের সরকারের শীতল সম্পর্ক চলছে। তাইওয়ান ও হংকং ছাড়াও চীন থেকে ফিলিপাইনে মাদকদ্রব্য আসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ দুতার্তে সরকার। কৌশলগত দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের মালিকানার দাবি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে দিয়েছেন। কিন্তু তার পরও চীন তা মানতে অস্বীকার করছে।

এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আসিয়ান সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মানার বাধ্যবাধকতার ওপর জোর দেন এবং পেইচিংয়ের তা অস্বীকার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।

এই ইস্যুটি থেকেই ‘সফ্ট লেন্ডিং’ (পরিস্থিতি শীতল) করতে চান দুতার্তে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি বিকল্প আছে। একটি যুদ্ধ করা, যা আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। অন্যটি হলো আলোচনা। তবে মাদকের সমস্যার প্রসঙ্গে চীন সরকার থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য