kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আসিয়ান সম্মেলন

সাগর নিয়ে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

সাক্ষাৎ ঘটল ওবামা-দুতার্তের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাগর নিয়ে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

আসিয়ান সম্মেলনে নেতাদের ফটোশুটে এক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, অন্য প্রান্তে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : বিবিসি

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিতর্কিত কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ কার্যক্রম নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোটের (আসিয়ান) সম্মেলনে পর পর দুই দিন কথা উঠেছে। লাওসে গত বুধবার জোট নেতারা এ বিষয়ে কেবল উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অগ্রাহ্য করার অধিকার চীনের নেই।

চীনের কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের ব্যাপারে আসিয়ান সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গত বুধবার যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সাগরে সাম্প্রতিক ও চলমান কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে বেশ কয়েকজন নেতার উদ্বেগ আমরা আমলে নিয়েছি। আসিয়ান নেতারা অবশ্য চীনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের দেওয়া রায় প্রসঙ্গে কিছু বলেননি।

তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার আসিয়ান নেতাদের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের যুগান্তকারী রায় (আন্তর্জাতিক আদালতের দেওয়া) মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রায়ে এ অঞ্চলে জলসীমার অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা আরো বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর পরও উত্তেজনা কমাতে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে কিভাবে আমরা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে একসঙ্গে সামনের দিকে এগোতে পারি, আমি সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ’

 

পাঁচ লাখ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক লেনদেনের রুট হিসেবে ব্যবহৃত দক্ষিণ চীন সাগরের পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক-সামরিক শক্তি চীন। এ জলসীমার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে চীনের কৃত্রিম দ্বীপ সম্প্রসারণের কাজ তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলজুড়ে সামরিক-ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে পশ্চিমের সঙ্গে বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক লড়াই চলছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিবদ্ধ সামরিক মিত্র ফিলিপাইন আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করে। গত জুলাইয়ে আদালত রায়ে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরজুড়ে চীন যে অধিকার দাবি করে চলেছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। রায়ে এটাও বলা হয়, ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের মাধ্যমে চীন ওই দেশের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু ওই রায়ের প্রতি কোনো তোয়াক্কা করছে না।

স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফিলিপাইনের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া স্কারবরো শোল এলাকায় চীনের তৎপরতার প্রমাণ হিসেবে গত বুধবার ফিলিপাইন সরকার কিছু ছবি প্রকাশ করে। এদিন আসিয়ান নেতারা তাঁদের সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে জোটভুক্ত কম্বোডিয়া ও লাওসের সঙ্গে চীন আগেই বোঝাপড়া সেরে রাখায় আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে কিছু বলা সম্ভব হয়নি। সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি। আসিয়ান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম উপস্থিতি।

ওবামা-দুতার্তের সাক্ষাৎ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি অশিষ্ট ভাষা প্রয়োগ করার পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হলেও তাঁদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বুধবারের নৈশভোজস্থলে তাঁদের দেখা হয়। খাবার হলে এ দুই নেতা আলাদাভাবে প্রবেশ করলেও সেখান থেকে বের হন সবার শেষে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবামা-দুতার্তের সাক্ষাতের ঘটনায় ‘অত্যন্ত আনন্দ’ প্রকাশ করেন। তবে তাঁদের মধ্যে কতক্ষণ কথা হয়েছে, সেটা তিনি জানাতে পারেননি। অন্যদিকে ওবামাপক্ষের কর্মকর্তা জানান, তাঁরা নিজেদের মধ্যে খানিকটা হাসিঠাট্টা করেছেন। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্যই কথা হয়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য