kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লাওসে বোমা হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ ওবামার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



লাওসে বোমা হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ ওবামার

একের পর এক বৈঠক চলছে, লাওসে ব্যস্ত সময় কাটছে বারাক ওবামার। গতকাল এক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে মেকং নদীর ধারে গাড়ি থেকে হুট করে নেমে তৃষ্ণা মেটাতে চুমুক দিলেন ডাবে। ছবি : এএফপি

ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে লাওসে গোপন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক বোমাবর্ষণের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। লাওসকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যাপক বোমা হামলার শিকার দেশ বলে অভিহিত করেন তিনি।

মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে ওবামা বলেন, লাওসের এই বোমার ‘ক্ষত’ সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে। ওবামা লাওস সফরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত লাওসে গড়ে প্রতি মিনিটে আটটি করে প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করা মোট বোমার চেয়েও এ সংখ্যা অনেক বেশি। এর বেশির ভাগই ছিল ক্লাস্টার বোমা। লাওসের ভেতর দিয়ে উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট বাহিনীকে দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রবেশে বাধা দিতে এই বোমাবর্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সে সময় লাওসে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৩৪৪টি বোমা হামলা মিশন পরিচালনা করেছিল। লাওসের এক বাসিন্দা জানান, সে সময় ‘বৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণ’ করা হয়েছিল। বোমাগুলোর ৩০ শতাংশ এখনো অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যাওয়ায় নিরীহ মানুষের জীবনহানির কারণ হচ্ছে। সংখ্যার হিসাবে তা প্রায় সাত কোটি ৫০ লাখ। লাওসের ১৮টি প্রদেশের মধ্যে ১০টিকে অবিস্ফোরিত বোমার কারণে ‘মারাত্মক দূষিত’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এক ঘোষণায় জানায়, আগামী তিন বছরে ক্লাস্টার বোমা ও অন্যান্য অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করে সরিয়ে নিতে প্রায় ৯ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। এসব বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে গত ২০ বছরে আরো ১০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে।

লাওসে ওই বোমায় আহত ও পঙ্গু লোকদের কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে সহায়তাকারী মার্কিন সমর্থিত একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আমন্ত্রণে ওবামা তাদের কার্যক্রম দেখতে যান। সেখানে বোমায় পঙ্গু হওয়া থুম্মি সিলাম্ফান নামের এক লোকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘চার দশক ধরে লাওসের জনগণ যুদ্ধের ছায়ায় বসবাস করে আসছে। ’ লাওসের এই ‘ক্ষত’ সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ আছে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য