kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রোহিঙ্গা ইস্যু

কফি আনানের সফরের প্রতিবাদ বৌদ্ধদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কফি আনানের সফরের প্রতিবাদ বৌদ্ধদের

ইয়াঙ্গুনে নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন কফি আনান। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের হুমিক দিয়েছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। মিয়ানমার সরকারের গঠিত ‘রাখাইন রাজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা কমিশনের’ প্রধান হিসেবে কফি আনান আজ মঙ্গলবার রাখাইনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির অনুরোধে এই উপদেষ্টা কমিশনকে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হন কফি আনান। সু চির প্রত্যাশা, তাঁর সরকার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে কিভাবে ধর্মীয় সংকীর্ণতাপ্রসূত তিক্ত সাম্প্রদায়িক বিভক্তির সমাধান করতে পারে, কমিশন সেই সুপারিশ করবে। এই লক্ষ্যেই ৯ সদস্যের কমিশন গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার। এর ছয়জন সদস্য হলেন মিয়ানমারের এবং কফি আনানসহ বাকি তিনজন বিদেশি।

দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক তিক্ততা চলে আসছে রাখাইন বৌদ্ধ ও রাজ্যটিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে। মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা জোর দিয়ে বলে আসছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। তারা রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ না বলে ‘বাঙালি’ বলে থাকে। এই তিক্ততার ফলে ২০১২ সালে রাখাইনে ভয়াবহ মুসলিমবিরোধী সহিংসতা সংঘটিত হয়। এরপর থেকে রাখাইন আজও অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। এর ফলে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের করুণ পরিস্থিতিতে মানবাধিকারের রক্ষাকর্তা হিসেবে সু চির সুনামও ক্ষুণ্ন করছে।

কফি আনান আজ সকালে রাখাইন রাজ্যের রাজধানীর সিত্তেতে পৌঁছার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে কফি আনান সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি রাখাইনে নিরপেক্ষ বক্তব্য দেবেন এবং পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন। আশা করা হচ্ছে, সফরে কফি আনান রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন এবং রাখাইন নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

কফি আনানের এই সফরকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার উগ্রপন্থী বৌদ্ধ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁর সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। অং তে নামের বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর এক নেতা বলেন, ‘রাখাইন সমস্যা রাখাইনদের স্থানীয় সমস্যা। আমরা কফি আনানের মর্যাদা স্বীকার করি। তাঁর সুনাম সম্পর্কে জানি। তবে আমাদের নিজস্ব বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সিত্তে বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করব। আমরা ব্যক্তিগতভাবে কফি আনানকে সম্মান করি। কিন্তু আমরা মনে করি না, তিনি রাখাইনদের ইতিহাস জানেন। ’ এ ছাড়া ওই অঞ্চলের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আরাকান ন্যাশনাল পার্টি ইতিমধ্যে কফি আনানের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে অসম্মতি জানিয়েছে।

মিয়ানমার সরকারের কার্যত প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত অং সান সু চি সাংবাদিকদের গতকাল বলেন, ‘আনানের ৯ সদস্যের কমিশন জাতিগত বিরোধের ক্ষত সারাবে। আমরা সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারি না। এড়িয়ে যাওয়া মানে খুব সহজেই সমস্যাকে আরো গুরুতর করে তোলা। ’

প্রসঙ্গত, সু চির সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম কয়েক মাস বিষয়টি এড়িয়ে যায়। কিন্তু গত জুন মাসে সু চি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রথমবারের মতো ‘রাখাইন রাজ্যের মুসলিম’ হিসেবে অভিহিত করতে নির্দেশ দেন। এর পর থেকে রাখাইনে উগ্রপন্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ নামে অভিহিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানায়।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য