kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘অ্যাগনেস’ থেকে ‘সন্ত’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘অ্যাগনেস’ থেকে ‘সন্ত’

গরিব-আর্ত, সর্বহারাদের সেবায় নিজেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত করেছিলেন মাদার তেরেসা। আপন করে নিয়েছিলেন সমাজের উঁচু-নিচু সবাইকে।

সমাজে যাদের কোনো স্থান ছিল না, তাদের সযত্নে নিজের কোলে আশ্রয় দিয়েছিলেন আলবেনিয়া থেকে ভারতে আসা এই সন্ন্যাসিনী। নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছিলেন বঞ্চিত-নিপীড়িতদের। ছোটবেলায়ই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সন্ন্যাস নিয়ে গরিব-আর্তদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। আর সেই সিদ্ধান্ত মতেই নিবিড় সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি সামান্য অ্যাগনেস থেকে হয়ে ওঠেন সন্ত।

তেরেসার জন্ম ১৯১০ সালে আলবেনিয়ার স্কোপজে শহরে। বর্তমানে এটি মেসিডোনিয়া রিপাবলিকের অন্তর্গত। সেই সময় এটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল অ্যাগনেস। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবাকে হারান। ছোট্ট অ্যাগনেস অল্প বয়স থেকেই সন্ন্যাসিনীদের জীবন কাহিনী শুনে বড় হচ্ছিলেন। কিভাবে গরিব-আর্তদের সেবা করা হয়, আর্তদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা হয় তা তিনি জেনেছিলেন। ফলে মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন সন্ন্যাসিনী হয়েই আর্তের সেবা করবেন।

১৯২৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করেন অ্যাগনেস। যোগ দেন আয়ারল্যান্ডের লরেটো সন্ন্যাসিনীদের সংস্থায়। সিস্টার মেরি তেরেসা নাম নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯২৯ সালে ভারতের মাটিতে পা রাখেন তিনি। দার্জিলিংয়ে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তিনি বাংলা শেখেন এবং সেন্ট তেরেসা কনভেন্ট স্কুলে পড়াতে শুরু করেন। এরপর তিনি কলকাতার এন্টালিতে লরেটো কনভেন্ট স্কুলে পড়ান এবং ১৯৪৪ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন।

স্কুলে পড়ানোর ফাঁকেই সিস্টার তেরেসা আর্তদের সেবা চালিয়ে যেতে থাকেন। কলকাতা ও আশপাশের দরিদ্র, অনাথ শিশুদের তিনি কাছে টেনে নেন। ১৯৪৩ সালে কলকাতায় দুর্ভিক্ষের সময় পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এরপর ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় শহর কলকাতা ক্ষতবিক্ষত হয়। ১৯৪৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং থেকে কলকাতা ফেরার পথে নিজের অন্তরের ডাক শুনতে পান তেরেসা। তখনই ঠিক করেন, একেবারে সব ছেড়ে গরিব-আর্তদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। আর এভাবেই সিস্টার তেরেসা হয়ে ওঠেন ‘মাদার টেরেসা’। ভারতের নাগরিকত্ব পান ১৯৪৮ সালে।

১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর ভ্যাটিকানের অনুমতি নিয়ে কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি স্থাপন করেন মাদার। ক্ষুধার্ত, নগ্ন, গৃহহীন, আর্ত, নিপীড়িত, সর্বহারা, সমাজবর্জিত মানুষের পাশে তিনি দাঁড়ান পরম মমতাময় স্নেহ নিয়ে। কলকাতায় মাত্র ১৩ জন সিস্টার নিয়ে যে মিশনারিজ পথ চলা শুরু করেছিল, আজ সেটিই বিশ্বের ১৩৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সিস্টারের সংখ্যাও সাড়ে চার হাজারের বেশি।

তেরেসা সমান দক্ষতার সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, আলবেনিয়ান ও সার্বিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারতেন। ১৯৮৩ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়র সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় প্রথমবার স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যা শুরু হয় মাদারের। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তেরেসা। ১৯৪৮ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ১৯৬২ সালে পান পদ্মশ্রী এবং র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারের সম্মান।   ১৯৮০ সালে ভারত সরকার দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করে তাঁকে।

২০০২ সালে তেরেসার প্রথম মিরাক্যালটি সামনে আসে। জানা যায়, ১৯৭৮ সালে অলৌকিকভাবে তিনি মনিকা বেসরা নামে এক তফসিলি মহিলার পেটের টিউমার সারিয়ে তোলেন। এর পরই ২০০৩ সালে মাদারকে বিটিফাই করে (স্বর্গবাসী ঘোষণা) ভ্যাটিকান সিটি। বিটিফিকেশন হলো সেন্টহুডের প্রথম পর্যায়। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় অলৌকিক ঘটনার কথাটি সামনে আসে। জানা যায়, ব্রাজিলের এক বাসিন্দার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছিল। মাদারের সাহায্যে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এটি জানার পরই ভ্যাটিকান সিটি মাদারকে সেন্টহুড দেওয়ার ঘোষণা করে।

সূত্র : ইন্টারনেট।


মন্তব্য