kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ ‘সন্ত’ হচ্ছেন মাদার তেরেসা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সুদূর মেসিডোনিয়ায় জন্ম হলেও সেবাধর্মের অনুসরণ করতে করতে যিনি দক্ষিণ এশিয়ার এক সমস্যা জর্জরিত দেশে এসে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন সেই মাদার তেরেসাকে আজ সন্ত ঘোষণা করছে ভ্যাটিকান সিটির রোমান ক্যাথলিক চার্চ।

অতীতের যাবতীয় নজির ভেঙে মাদার তেরেসাকে সন্তের আসনে অধিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়াটি শুরু করে গিয়েছিলেন পোপ দ্বিতীয় জন পল।

তাঁর আমলে ভ্যাটিকানে সর্বাধিকসংখ্যক লোককে সন্ত উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর হাতে শুরু হওয়া সেই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটবে আজ পোপ ফ্রান্সিসের হাতে। ভ্যাটিকানের বিশাল সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে মাদারকে সন্ত ঘোষণা করবেন তিনি।

মাদার তেরেসাকে সন্ত ঘোষণা করা উপলক্ষে রোমে উৎসব শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা চলবে। উৎসবের প্রথম দিন এখানকার মিশনারিজ অব চ্যারিটির তত্ত্বাবধানে থাকা দরিদ্র শিশুদের জন্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়। উৎসবের অংশ হিসেবে মাদারের জীবন নিয়ে তৈরি করা নানা ধরনের প্রদর্শনীও চলছে। মাদার তেরেসাকে সন্ত ঘোষণার মূল অনুষ্ঠান হবে স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০টায়। অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ লোকসমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসিডোনিয়ার (তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্য) রাজধানী স্কোপিয়েতে ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট তেরেসা তথা অ্যাগনেস গঞ্জা বয়াজিউর জন্ম। তাঁর মা তাঁকে রোমান ক্যাথলিক আদর্শে গড়ে তোলেন। সেই আদর্শের অনুসারী হয়েই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯২৯ সালে তাঁর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আগমন। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিশনারিজ অব চ্যারিটি। তাঁর কর্মতত্পরতায় তাঁর জীবদ্দশাতেই বিশ্বের ১২৩টি দেশে এইডস, কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু ও পরিবার পরামর্শকেন্দ্র, অনাথ আশ্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেবাপরায়ণতার পুরস্কার হিসেবে ১৯৭৯ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। পরের বছরই তাঁকে ভূষিত করা হয় ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সূত্র : সিবিসি নিউজ।


মন্তব্য