kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’

তদন্তে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তদন্তে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ব্রিটেনে বসবাসরত পাকিস্তানি নারী সামিয়া শহিদ হত্যাকাণ্ডে তদন্তে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত সামিয়ার বাবা ও সাবেক স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সামিয়া হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ডিআইজি আবু বকর খুদা বকশ গত শুক্রবার কাজে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আকিল আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। গতকাল আকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিটেনে ব্র্যাডফোর্ডে বসবাসরত সামিয়া পাকিস্তানের পাঞ্জাবে তাঁর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে গত ২১ জুলাই খুন। তাঁর বর্তমান স্বামী সৈয়দ মুখতার কাজিমের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে সামিয়ার সাবেক স্বামী চৌধুরী মুহাম্মদ শাকিল স্কার্ফ দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ কাজে বাবা চৌধুরী মুহাম্মদ শহিদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তে হত্যার আগে সামিয়াকে ধর্ষণ করার তথ্যও পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে শাকিলের সঙ্গে সঙ্গে সামিয়ার বাবা শহিদকেও আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত রিমান্ডে রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সৈয়দ মুখতার জানান, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সামিয়া তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটায়। মুখতারের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েটাও সামিয়ার পরিবার মেনে নেয়নি। এর রেশ ধরে ‘অনার কিলিংয়ের’ নামে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন মুখতার। সামিয়ার বাবা অসুস্থতার কথা বলে ব্রিটেন থেকে মেয়েকে পাকিস্তানে ডেকে আনেন। সামিয়ার মৃত্যুর পর প্রথমে হৃিক্রয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও তাঁর মৃতদেহের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড সন্দেহে তদন্ত গতিশীল হয়। মুখতারের প্রকাশিত ছবিতে সামিয়ার মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ছাড়া স্থানীয় যে চিকিৎসক লাশ প্রথম দেখেন, তিনিও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

হিউম্যান রাইটস কমিশন পাকিস্তানের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছর পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে পাকিস্তানে প্রায় এক হাজার ১০০ নারী স্বজনদের হাতে খুন হয়েছেন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল এক হাজার এবং ২০১৩ সালে ৮৬৯। সূত্র : দ্য ডন, দ্য টেলিগ্রাফ।


মন্তব্য