kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিলিপাইনে হামলার জন্য দায়ী ইসলামী জঙ্গিরা

নিহতের সংখ্যা ১৪, দেশকে ‘গোলযোগপূর্ণ’ ঘোষণা দুতার্তের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফিলিপাইনে হামলার জন্য  দায়ী ইসলামী জঙ্গিরা

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও শহরের একটি বাজারে হামলার জন্য জঙ্গি দল আবু সায়াফকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মার্কো হোটেলের সামনে রাতের বাজারে চালানো ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় দাভাও শহরে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। এটি তাঁর নিজের শহর। তবে বাজারে হামলার সময় তিনি সেখান থেকে অনেক দূরে ছিলেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একসময়ের অপরাধপ্রবণ এই শহরের মেয়র ছিলেন দুতার্তে। মনে করা হয়, এই শহরের অপরাধ দমনে পাওয়া সাফল্যের কারণেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি।

হামলার পর দুতার্তে বলেন, “এই সহিংসতার কারণে ‘গোলযোগপূর্ণ অবস্থা’ দেশে বিদ্যমান বলে ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছি আমি। ” তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন, এটি সামরিক আইন নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সতর্কতা জারি থাকার অর্থ হলো, সহিংসতা দমনে প্রেসিডেন্ট চাইলে সেনাবাহিনী নামাতে পারবেন।

দুতার্তে ছুটির দিনগুলোয় সাধারণত দাভাও থাকেন; প্রায়ই মার্কো পোলো হোটেলে গিয়ে বৈঠক ও লোকজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও ওই হোটেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। কর্তৃপক্ষ বলেছে, জঙ্গি সংগঠন আবু সায়াফ এ হামলা চালাতে পারে। গত সপ্তাহে জঙ্গিগোষ্ঠীটির ওপর সামরিক অভিযানের জবাবে এ হামলা হতে পারে।

বর্তমানে শহরটির মেয়র  দুতার্তের মেয়ে সারাহ দুতার্তে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, সামরিক অভিযানের জবাবে আবু সায়াফ গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে। ’

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গোলা ও কামানের অংশ খুঁজে পেয়েছে। ম্যানিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ওই হামলায় কমপক্ষে ৬৭ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান ম্যানুয়েল গুয়েরলান বলেন, শহর থেকে বের হওয়ার পথগুলোয় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

দাভাও ফিলিপাইনের অন্যতম বড় একটি শহর। সেখানে ২০ লাখ লোকের বাস। ম্যানিলা থেকে শহরটির দূরত্ব এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার।

প্রসঙ্গত, আবু সায়াফে ছোট হলেও ভয়ংকর জঙ্গি দল। তাদের সঙ্গে আইএসের যোগসাজশ রয়েছে। বিদেশিদের অপহরণ করা ও মুক্তিপণ আদায়ের জন্য কুখ্যাতি রয়েছে দলটির। এ বছর দুজন কানাডীয় জিম্মির শিরশ্ছেদ করে আবু সায়াফ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য