kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিয়ানমারে শান্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ

আরো বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মিয়ানমারে শান্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ

মিয়ানমারের সশস্ত্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকার ও সেনাবাহিনীর চার দিনব্যাপী শান্তি আলোচনা গতকাল শেষ হয়। আলোচনার সমাপনী টেনে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন সরকারের উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে আন্দোলনরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চার দিনের বৈঠক কোনো রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলেও আবার আলোচনায় বসার কথা বলেছেন সরকারের উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। রাজধানী নেপিডোতে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল শনিবার শেষ হয়।

অস্ত্র সমর্পণে রাজি হওয়া সশস্ত্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনী গত বুধবার থেকে আলোচনা শুরু করে। পাঁচ দিন এ বৈঠক চলার কথা ছিল। তবে গতকাল আলোচকরা সিদ্ধান্ত নেন, বৈঠক পঞ্চম দিনে গড়ানোর প্রয়োজন নেই। ফলে গতকালই বৈঠকের সমাপ্তি টানা হয়।

মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসার পর সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা এটাই প্রথম। ফেডারেল সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের স্ব-স্ব অঞ্চলে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আলোচনায় বসানো হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রায় সাত দশকের অন্তঃকোন্দলে জর্জরিত মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এক টেবিলে বসাতে পারাটাই সু চির অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সমাপনী দিনে সু চি বলেন, ‘শান্তি অর্জন করাটা খুব কঠিন। এটা প্রথম বৈঠক। এরপর আরো বৈঠক হবে। আর এসব বৈঠকের মাঝখানের সময়টায় আমাদের অনেক কিছু করার আছে। ’ সব পক্ষের বক্তব্য সাপেক্ষে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রত্যেক দলই তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে এবং দেখা গেছে, কেউ কেউ অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত করেছে আর বাকিরা দৃষ্টি দিয়েছে ভবিষ্যতের দিকে। আজ যারা অতীতের দিকে তাকিয়ে আছে, তারা পরবর্তী সময়ে হয়তো সামনের দিকে তাকাবে। আর আমরা আশা করি, তারা সেটাই করবে। ’

সাংবিধানিক জটিলতায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও দেশ পরিচালনার ভার কার্যত সু চির হাতেই আছে। তিনি এখনো ফেডারেল সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা না দিলেও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্টে এক-চতুর্থাংশ আসনের অধিকারী এবং ভেটো প্রদান ক্ষমতার অধিকারী সেনা সদস্যদের জন্য সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাটা সু চির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য