kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিলারির ই-মেইল বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে প্রচারে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হিলারির ই-মেইল বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

হিলারি ক্লিনটন --- ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে করা তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই)। ৫৮ পৃষ্ঠার নথিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারির সাক্ষাৎকারসহ নিউ ইয়র্কে তাঁর বাসভবনের ব্যক্তিগত সার্ভার সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য আছে।

ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে হিলারি আইন ভেঙেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে এক বছর ধরে তদন্ত করে এফবিআই। চলতি বছরের জুলাইতে তদন্ত শেষ হয়। তদন্ত শেষে এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমি হিলারির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনার সুপারিশ করেননি। কোমি জানিয়েছেন, গোপনীয় তথ্যের বিষয়ে হিলারি ও তার কর্মীরা ‘অসতর্ক’ আচরণ করলেও তারা জেনেশুনে এ কাজ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কোমি জানিয়েছেন, গোপনীয় তথ্য কিভাবে সামলাতে হয় সে বিষয়ে ‘সর্বোচ্চ জ্ঞান’ প্রদর্শন করতে পারেননি হিলারি, এ কারণেই তিনি ও তাঁর কর্মীরা গোপনীয় তথ্য সামলানোর বিষয়ে ‘অত্যন্ত অসতর্ক’ ছিলেন। এফবিআইয়ের প্রকাশিত তথ্যে কোমির উল্লেখ করা দুটি বিষয়েই বিস্তারিত তথ্য আছে।

এতে দেখা যায়, হিলারি জানিয়েছেন, গোপনীয় নথি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এমনটি মনে করতে পারছেন না তিনি। তিনি জানান, তিনি গোপনীয় নথির শ্রেণীকরণের বিষয়ে ‘মনোযোগ’ না দিয়ে সব গোপনীয় নথিই ‘গুরুত্বের’ সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় হিলারি ১৩টি মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার করেছিলেন। এগুলোর কয়েকটি ধ্বংস করে ফেলা হলেও বাকিগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। এমন ইঙ্গিত আছে, অজ্ঞাত কোনো একটি গোষ্ঠী হিলারির ই-মেইল সার্ভারে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল এবং একটি ক্ষেত্রে বিল ক্লিনটনের কর্মীদের মধ্যে একজনের ই-মেইল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সফলতার সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ করতে পেরেছিল।

এ ছাড়া হিলারি নিয়মিত তাঁর ব্ল্যাকবেরি ফোন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতেন—এটি ওই মন্ত্রণালয়ের নীতির লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নিজের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে প্রধান অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন হিলারি, কিন্তু এফবিআইয়ের প্রতিবেদন তাঁর এই উদ্দেশ্যে সহায়তা করবে না।

কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সামনে ট্রাম্প : কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার তিনি ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে ভোট চান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ১০ সপ্তাহ বাকি। এ পরিস্থিতিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি বারবারই কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত শুক্রবারও তাঁকে একই চেষ্টায় দেখা যায়। এ সময় তিনি ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটদের ভোটের সময় ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গদের আশপাশে দেখা যায় না। কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য তারা কিছুই করেনি। ট্রাম্প বারবারই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের হারাবার কী আছে?’ অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের আমলে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কিছুই করা হয়নি। ট্রাম্প তাদের জন্য এর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর আর কী করতে পারবেন? সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য