kalerkantho


সমস্যার পাহাড় প্রেসিডেন্ট তেমেরের কাঁধে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সমস্যার পাহাড় প্রেসিডেন্ট তেমেরের কাঁধে

রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দিউমা হুসেফ আর মিশেল তেমের এখন তীব্র শত্রু। সম্পর্কে তিক্ততা থাকলেও একজনকে সরিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসা অন্যজনকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একই হ্যাপার মুখে পড়তে হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দাকবলিত ব্রাজিলের হাজারো সমস্যা আর এর ওপর সময়স্বল্পতা—সব মিলিয়ে তেমের সময়টা কিভাবে পার করেন, সেদিকেই এখন বিশ্লেষকদের তীক্ষ নজর।

দিউমার অভিশংসনের সিদ্ধান্ত হয়ে যায় গত বুধবার রাতে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সিনেটরদের ৬১-২০ ভোটে সিদ্ধান্তটা চূড়ান্ত হওয়ার পর পরই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট থেকে পুরোদস্তুর প্রেসিডেন্ট হয়ে যান তেমের, দিউমার আমলে যিনি ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নানামুখী সমস্যায় ডুবে থাকা ব্রাজিলকে টেনে তুলতে তেমেরের হাতে সময় আছে মাত্র দুই বছর চার মাস, যেখানে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পান চার বছর। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ তাঁর ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে।

কোন সমস্যার সমাধানে তেমেরকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে—এর উত্তরের প্রথম সারিতেই রয়েছে মন্দা জর্জরিত অর্থনীতি। ব্রাজিলের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের পর থেকে এখনই তাদের অর্থনীতি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। বলা দরকার, গত মে থেকে জুলাইয়ে বেকারত্বের হার বেড়ে ১১.৬ শতাংশে দাঁড়ায়। মে মাসেই দিউমা সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন তেমের। অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি সংকোচনের হার ০.৬ শতাংশ। এ অবস্থা থেকে উঠে আসতে পারাটা তেমেরের জন্য হতে পারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

প্রেসিডেন্টের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার দিনই তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমাদের অর্থনীতির শক্তি পুনরুদ্ধার করা এবং ব্রাজিলকে পূর্ণ গতিতে সচল করাই আমার অঙ্গীকার। ’ অঙ্গীকার পূরণে তাঁর নিজের ভূমিকা যতটুকুই হোক না কেন, শেয়ারবাজারে পরিবর্তনটা ইতিবাচক। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাও পাওলোর শেয়ারবাজারে লেনদেন প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে যায় এবং ব্রাজিলীয় মুদ্রার মূল্যমান বাড়ে ১৫ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যয় সংকোচন এবং পেনশন ও শ্রম আইন সংস্কারে তেমেরের প্রস্তাবগুলো পার্লামেন্টে পাস করানোটা কঠিন হবে। পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল ঘাটতিওয়ালা বাজেট পুনর্গঠন করাটা তেমের সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষক হ্যারল্ড তাউ। ব্রাজিলের অর্থনীতির তদারকির জন্য নতুন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছেন। দিউমার পূর্বসূরি লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন নবঘোষিত অর্থমন্ত্রী হেনরিক মেইরেলস।

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে তেমেরের অন্যতম দায়িত্ব কী হবে, এর উত্তরে কংগ্রেসো এম ফোসো ওয়েবসাইটের সম্পাদক সিলভিও কোস্তা জানান, তাঁকে অবধারিতভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন অর্জন করতে হবে। আর সেটার জন্য তাঁকে ছাড় দিতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত দিউমা পার্লামেন্ট তথা কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে পারেননি বলেই তাঁকে অভিশংসিত হতে হয়েছে, সে কথা বলতেও ভোলেননি সিলভিও। তেমেরকে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে তো বটেই, সেই সঙ্গে জনতার সঙ্গে বোঝাপড়ার কঠিন কাজটাও করতে হবে। ব্রাজিলের রাজনীতিকরা সেই কাজটাকে খুব কঠিন করে ফেলেছেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

অভিশংসনের বিরুদ্ধে দিউমার আপিল

দিউমা সিনেটে গৃহীত তাঁর অভিশংসন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি সিনেটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।

গত বুধবার সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে দিউমা অভিশংসিত হন। পরদিনই এর বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বিদায় জানাব না। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। ’

প্রসঙ্গত, সিনেটররা দিউমাকে অভিশংসিত করলেও তাঁকে আট বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে পর পর দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়া দিউমা সংবিধান অনুসারে মাঝখানে চার বছর বিরতি দিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করতে পারবেন।

দিউমার আইনজীবী হোসে এদুয়ার্দো কারদোজোর দাবি, অভিশংসন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাই সিনেটের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার আবেদন করে পুনরায় ভোটের আবেদন জানান তিনি। বিশ্লেষকরা অবশ্য মনে করেন, দিউমার আপিলের ইতিবাচক রায়ের আশা খুব ক্ষীণ।


মন্তব্য