kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এ বিদায়ই কি শেষ কথা!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এ বিদায়ই কি শেষ কথা!

ব্রাজিলের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফের রাজনৈতিক উত্থানটা কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়টাকে এখনই কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা যাচ্ছে না।

কারণ পার্লামেন্ট তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সরিয়ে দিলেও তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট দিউমার পরবর্তী পদক্ষেপই বলে দেবে, তাঁর শেষটা ঠিক কেমন হবে।

ব্রাজিলের মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৪৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া দিউমা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। সেই স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে মার্কসবাদী গেরিলা হয়ে ওঠা তরুণী দিউমাকে মাত্র ২২ বছর বয়সে সামরিক কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। তাঁর সেই সময়কার স্পর্ধিত ভঙ্গির ছবি আজও সবার নজর কাড়ে। তখন হয়তো কেউ দিউমাকে আজকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কল্পনাও করেনি।

দেশে সেনাশাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে দিউমা সশস্ত্র মার্কসবাদী হয়ে ওঠেন। শাস্তি হিসেবে সত্তরের দশকে তাঁকে প্রায় তিন বছর জেল খাটতে হয়। বৈদ্যুতিক শকসহ নানামুখী শারীরিক অত্যাচারও সেই সময় তাঁকে সহ্য করতে হয়। আর তাই রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গত মে মাসে যখন পার্লামেন্টে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতি আমাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন অত্যাচারও আমার ওপর হয়েছে, যা আমাকে শারীরিক সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কোনো কিছুই আমার পথচলা থামাতে পারবে না। ’

গত বুধবার সিনেটররা ৬১-২০ ভোটে দিউমাকে অভিশংসিত করেন। তবে আচমকাই দিউমাবিরোধী একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁদের ভোট পড়ে। অভিশংসনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে তাঁকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও ছিল। বুধবার তাঁর অভিশংসনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও সিনেটররা তাঁকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায়টা বেদনাদায়ক হলেও একে দিউমার রাজনৈতিক জীবনের শেষ বলা যাবে না।

অভিসংশনের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দিউমা রুশ কবি মায়াকভস্কির ‘তাতে কী হয়েছে?’ শিরোনামের একটি কবিতার লাইন উচ্চারণ করেন, ‘ইতিহাসের যে জল অবিরত ঘোলা হয় তার কাছে আনন্দের কিছু নেই, নেই কষ্টেরও কিছুু। ’

স্থানীয় দৈনিক ফোলহা জানায়, অভিশংসন ঠেকানো যাচ্ছে না, এটা টের পেয়ে আগেই নিজের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেন দিউমা। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে তাঁর নিজ শহর পোর্তো আলেগ্রেতে ফিরবেন। সেখানে তাঁর একটা অ্যাপার্টমেন্ট আছে। তবে সেখানে অবধারিতভাবেই নেই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আবহ আর সুযোগ-সুবিধা। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছাড়ার জন্য তাঁকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। পোর্তো আলেগ্রে শহরে ফেরার সব ব্যবস্থা সরকারের তরফেই করা হচ্ছে।

অনেকের ধারণা, সাধারণ ব্রাজিলীয় জীবনযাপনে এখন অনভ্যস্ত দিউমা কষ্টে পড়ে যাবেন। অন্যদিকে সিস্টেম অ্যানালিস্ট আলেক্সান্দ্রে ফ্রাগোস লাসের্দার অভিমত, অনাড়ম্বর জীবনযাপনে দিউমা বেশ স্বস্তির মধ্যেই থাকবেন। কিন্তু প্রশ্নটা হলো, কাজপাগল হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিক কাজ ছাড়া কত দিন থাকবেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য