kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সুপ্রিম কোর্টের রায়

সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ অবৈধ

এখন আমি শান্তিতে মরতেও পারি : মমতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ অবৈধ

সিঙ্গুর মামলায় ঐতিহাসিক জয় পেলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, টাটা কারখানার জন্য সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ অবৈধ।

বিচারপতি গোপাল গৌড়া ও বিচারপতি অরুণ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে বলা হয়েছে, আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের হাতে অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

মমতা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কাল শুক্রবার গোটা রাজ্যে সিঙ্গুর উৎসব পালনের ডাক দিয়েছেন তিনি। রায় ঘোষণার পরপরই গতকাল শুরু হয়ে যায় সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকারীদের আবির খেলা, মিষ্টিমুখ। মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ের জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করেছি। এখন আমি শান্তিতে মরতেও পারি। ’

দীর্ঘ ১০ বছর পর সিঙ্গুর মামলার নিষ্পত্তি হলো। ২০০৬ সালে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা গড়তে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বামফ্রন্ট সরকার। কৃষকের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার পরই মমতা সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইন পাস করান রাজ্য বিধানসভায়। কিন্তু সে আইনকে কলকাতা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায় টাটা গোষ্ঠী। জমি অধিগ্রহণের ১০ বছর পর গতকাল সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন, ওই অধিগ্রহণ অবৈধ ছিল। সে সময় দেশে যে জমি আইন কার্যকর ছিল, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার জমি অধিগ্রহণের সময় সেই আইন মানেনি বলে সুপ্রিম কোর্ট মত প্রকাশ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আরো জানান, যেসব কৃষক ওই সময় জমি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন এবং ক্ষতিপূরণ নিয়েছিলেন, তাঁদের জমিও ফেরত দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা রাজ্য সরকারকে তাঁরা ফেরত দেবেন না। কারণ গত ১০ বছর জমি তাঁরা ভোগ করেননি। জমি দেওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে টাকা তাঁরা নিয়েছিলেন, একে গত ১০ বছর জমি ভোগ করতে না পারার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই দেখা হবে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য