kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিয়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মিয়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু

গতকাল মিয়ামারের শান্তি আলোচনায় সরকারের উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি (মাঝে), প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও (ডানে) এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে আন্দোলনরত সশস্ত্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গতকাল বুধবার আলোচনা শুরু করেছে সরকার ও সেনাবাহিনী। রাজধানী নেপিডোতে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী আলোচনার উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে, এমন ১৭টি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে সরকার। অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অং সান সু চি বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত আমরা জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় সাধন এবং জাতীয় ঐক্য অর্জন করতে না পারব, তত দিন আমরা একটা টেকসই ও মজবুত শান্তিপূর্ণ ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। আমাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই আমাদের এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং পুরো বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব। ’

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত মিয়ানমার। সেনাসমর্থিত বিগত সরকার কিছু কিছুু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি করলেও বাকিরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বছরে পর বছরের ধরে চলা সংঘর্ষে লাখো মানুষ নিহত হয়। বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অং সান এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) কোন্দলরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।

বিবিসির নেপিডো প্রতিনিধি জানান, মিয়ানমারে ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসিয়েছে সরকার। ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে খুব একটা স্পষ্ট ধারণা না দিলেও কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা ও সম্পদের বণ্টনের অঙ্গীকার করে। কিন্তু পার্লামেন্টে এখনো এক-চতুর্থাংশ আসনের অধিকারী সেনাসদস্যদের মতে, ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা মিয়ানমারে ভাঙন সৃষ্টি করবে। ফলে এ ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠায় তারা বাধা দেবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিবিসি প্রতিনিধি আরো জানান, আলোচনা সভায় যে জটিলতা দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। কিন্তু প্রায় সাত দশকের বিরোধের মীমাংসা করার জন্য এ ছাড়া আপাতত অন্য কোনো রাস্তাও তাদের সামনে নেই।

সূত্র : বিবিসি।

 

 


মন্তব্য