kalerkantho


গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের বিরাট অংশই বিবর্ণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের বিরাট অংশই বিবর্ণ

অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অন্যতম প্রাচীন উত্তরাংশ আরো বিবর্ণ হয়ে পড়েছে, যা এর আগে পর্যবেক্ষকদের চোখ এড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণকালে বিমান ও হেলিকপ্টার থেকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের ৫২০টি প্রবালপ্রাচীর জরিপের সময় বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে।

জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবালপ্রাচীর বিশেষজ্ঞ টেরি হিউজেস গত মঙ্গলবার জানান, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের উত্তরাংশে হাজার কিলোমিটারজুড়ে তাঁরা অনেক অনেক বেশি বিবর্ণ হয়ে পড়া প্রবালপ্রাচীর দেখেছেন। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলীয় সরকারের পর্যবেক্ষণে ওই অংশের এমন অবস্থা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।

এই বিশেষজ্ঞ জানান, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রাচীনতম অংশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এলাকা তাঁরা ঘুরে দেখেছেন। এগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি প্রবালপ্রাচীর তাঁদের চোখে পড়েছে, যেগুলোর রং বিবর্ণ হয়ে যায়নি। কিন্তু যেসব অংশ বিবর্ণ হয়েছে, সেগুলোর অবস্থা ১৯৯৮ কিংবা ২০০২ সালের চেয়ে খারাপ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওই সব প্রবালপ্রাচীরের ৬০ শতাংশ প্রবালই রং হারিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হয়তো জাতিসংঘের ‘বিপদাপন্ন’ তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে।

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ নানা রঙের শৈবালের জন্য রঙেও বৈচিত্র্যময়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরজলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় শৈবালের মৃত্যু ঘটছে।

ফলে প্রবালগুলো বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। শৈবালের ওপর নির্ভরশীল প্রাণিকুলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য ও কৃষিক্ষেত থেকে ধুয়ে আসা রাসায়নিক পদার্থও গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের ক্ষতি করে চলেছে।

একে রক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার সরকারের নানা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে

এটি এখনো জাতিসংঘের ‘বিপদাপন্ন’ তালিকাভুক্ত হয়নি।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য