kalerkantho


জাতিসংঘের ঘোষণা

লিবিয়ায় ঐকমত্যের সরকার মানলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে ত্রিপোলিভিত্তিক প্রশাসনের ১০ নগর কর্তৃপক্ষের সমর্থন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার ঐকমত্যের সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে ১০ নগর কর্তৃপক্ষ। নগরগুলো এত দিন রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক প্রশাসনের অধীনে ছিল। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ঐকমত্যের সরকার দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে লিবিয়ার বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের (এলআইএ) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

২০১৪ সালের মধ্য ভাগ থেকে লিবিয়ায় মূলত দুটি সরকার শাসন করছে। জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেস নামের একটি পক্ষ ত্রিপোলি ও তার আশপাশের অঞ্চল দখলে রেখেছে। আরেক পক্ষ শাসন বজায় রেখেছে ত্রিপোলি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে তোবরুক শহরে। সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি ঐকমত্যের সরকার গঠন করে। জাতিসংঘ আগের দুই প্রশাসনের জায়গায় ঐকমত্যের সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে।

পাশের দেশ তিউনিসিয়ায় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা। সেখান থেকে গত বুধবার নৌপথে ত্রিপোলি বন্দরে পৌঁছান ওই সরকারের সাত সদস্য। তাঁদের মধ্যে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সারাজও আছেন।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা বন্দরেই অবরুদ্ধ ছিলেন।

ফায়েজ আল-সারাজ বলেন, তাঁরা লিবিয়ার জনগণকে নতুন সরকারের আনুগত্য মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি বিরোধী সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐকমত্যের সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বলেন।

তবে ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণে থাকা জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রধান খলিফা আল ঘাউয়ি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের আত্মসমর্পণ করতে হবে, নইলে যেখান থেকে এসেছেন, সেখানে ফিরে যেতে হবে। ’

এরই মধ্যে অবশ্য ত্রিপোলি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১০টি উপকূলীয় শহর বৃহস্পতিবার ঐকমত্যের সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। ‘সাবরাথা’ নগর কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এই সমর্থন জানানো হয়।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ঐকমত্যের সরকার দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে এলআইএ তহবিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ওই তহবিলে ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলারের মতো অর্থ আছে। সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ওই তহবিলের অর্থ পাচার করে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ২০১১ সালে ওই অর্থ জব্দ করা হয়।

ঐকমত্যের সরকারের বিরোধিতা করায় লিবিয়ার তিন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তাঁরা হলেন জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নুরি আবুসামাইন, প্রধানমন্ত্রী আল ঘাউয়ি এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট আগুইলা সালেহ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য