kalerkantho


অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

অবৈধভাবে সিরীয় শরণার্থীদের ফেরত পাঠাচ্ছে তুরস্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



অবৈধভাবে সিরীয় শরণার্থীদের ফেরত পাঠাচ্ছে তুরস্ক

শরণার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আশ্রয় শিবিরে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। গ্রিক-মেসিডোনিয়া সীমান্তে গ্রিসের ইদোমেনি গ্রামে নতুন আবাস তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করে আনছেন শরণার্থীরা। গতকাল তোলা ছবি।ছবি : এএফপি

তুরস্ক জোরপূর্বক হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে তুর্কি সরকার অবৈধ এ কাজ করছে।

যদিও শরণার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর অভিযোগ তুরস্ক অস্বীকার করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনকে সংঘাতপূর্ণ সিরিয়ায় জোর করে ফেরত পাঠাচ্ছে তুরস্ক। এ ছাড়া ইউরোপমুখী শরণার্থীর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির নানা ত্রুটি-বিচ্যুতিও তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে।

বিতর্কিত ইইউ-তুরস্ক চুক্তির অধীনে আগামী সোমবার (৪ এপ্রিল) প্রথম গ্রিস থেকে শরণার্থীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানো শুরু হওয়ার কথা। এর আগমুহূর্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি বলেছে, ‘অমানবিকভাবে যে সংখ্যায় শরণার্থীদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে তা সত্যিকার অর্থে খুবই দুঃখজনক। ’ ইউরোপ ও সেন্ট্রাল এশিয়া অঞ্চলের অ্যামনেস্টির পরিচালক জন ডালহুসেন ‘অতিসত্বর তুরস্কের এই শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের কাজ বন্ধের দাবি’ জানিয়েছেন।

এদিকে গ্রিসে পা রাখা শরণার্থীদের তুরস্কে ফেরত পাঠাতে যেন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ। আর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আগে গ্রিসের দ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।

শরণার্থীদের মধ্যে সংঘটিত সংঘাত-সংঘর্ষে গতকাল আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে সিরীয় ও আফগান শরণার্থীদের মধ্যেও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয় আটজন।

ইইউ-তুরস্ক চুক্তি অনুযায়ী, অবৈধভাবে গ্রিসে পা রাখা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে তুরস্কে। এর বিপরীতে তুরস্কের আশ্রয় শিবিরে থাকা সমানসংখ্যক সিরীয় শরণার্থী নেবে ইউরোপ। এ চুক্তি কার্যকরের বিনিময়ে তুরস্ক ইউরোপের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তাসহ রাজনৈতিক সুবিধা পাবে।

অ্যামনেস্টির মতে, মধ্য জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ নারী-শিশুসহ সিরীয় শরণার্থীকে সংঘাতের মধ্যে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এটি অবৈধ। একটি ক্ষেত্রে তিন শিশুকে তাদের মা-বাবা ছাড়াই সিয়িরায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্য আরেকটি ক্ষেত্রে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে জোর করে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। অবশ্য অ্যামনেস্টি বলছে, ফেরত পাঠানো অনেকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। তবে কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটছে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য