kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ইমরে কার্তেজ আর নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ইমরে কার্তেজ আর নেই

হাঙ্গেরির নোবেল পুরস্কারজয়ী একমাত্র সাহিত্যিক ইমরে কার্তেজ মারা গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যার সাক্ষী কার্তেজ দীর্ঘ রোগভোগের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী বুদাপেস্টে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

কার্তেজ ২০০২ সালে নোবেল পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে তাঁর পারকিনসন রোগ ধরা পড়ে। বুদাপেস্টে তাঁর প্রকাশক মাগভেতো পাবলিশিংয়ের পরিচালক ক্রিসতিয়ান নায়ারি বলেন, ‘শুধু তাঁর লেখনিতে নয়, তাঁর চিন্তা ও বিশ্বের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি ছিলেন বিশ শতকে হাঙ্গেরির সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখকদের একজন। আগামী দিনগুলোতে অন্য লেখকদের মধ্যে তাঁর বিপুল প্রভাব থাকবে। ’

ইহুদি মা-বাবার সন্তান কার্তেজ ১৯২৯ সালের ২৯ নভেম্বর বুদাপেস্টে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিতাড়িত কার্তেজের জায়গা হয় জার্মানির বন্দিশিবিরে। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বুদাপেস্টে ফিরে একটি দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিন বছরের মাথায় হাঙ্গেরির সাম্যবাদী সরকার পত্রিকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর ১৯৪৮ সালে তিনি চাকরি হারান। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ফেটলেসনেস’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মতো এটাতেও প্রাধান্য পায় ইহুদি গণহত্যা। প্রথম উপন্যাসে কার্তেজ আসলে জার্মান বন্দিশিবিরে নিজের জীবনটাকেই তুলে ধরেছেন, বিশ্লেষকরা সেরকম মনে করলেও জীবদ্দশায় তিনি নিজে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে গেছেন। তাঁর দাবি, সর্বগ্রাসী শাসনব্যবস্থার সমালোচনাই তিনি উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ২০০৯ সালে জার্মান সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি ইহুদি গণহত্যা নিয়ে লিখেছি। কারণ এটা একটা অনন্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমি উপন্যাস লিখেছি, ইহুদি গণহত্যার সাহিত্য নয়। ’

তত্কালীন হাঙ্গেরি সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কার্তেজ তাঁর প্রথম উপন্যাসটি রচনা করেন। এর জন্য তিনি প্রায় ১৩ বছর ব্যয় করেছেন। উপন্যাসটি প্রকাশের পর সেটি পাঠকসমাজের অগোচরে চলে যায়। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ফিয়াসকো’ প্রকাশিত হয় ১৯৮০-এর দশকে। নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশ ছেড়ে জার্মানি চলে যান। অবশ্য অসুস্থ হওয়ার পর ২০১৩ সালে দেশে ফেরেন। সূত্র: এএফপি।


মন্তব্য