kalerkantho


কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণ

কাজে বাধ্য করা হচ্ছে বিদেশি শ্রমিকদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরা নানা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের জোর করে কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, বেতনও আটকে রাখা হচ্ছে অনেকের। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এসব অভিযোগ তুলেছে। আর এ জন্য কাতার সরকারের পাশাপাশি তাঁরা সমালোচনা করেছে ফিফার ‘নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকারও।

আগামী ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসার কথা। এ জন্য দেশটির বিভিন্ন শহরে স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি রাজধানী দোহার ‘খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম’। সেখানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের বেশির ভাগই দক্ষিণ এশিয়া থেকে যাওয়া। সম্প্রতি নির্মাণাধীন ওই স্টেডিয়ামে কর্মরত ২৩১ জন অভিবাসী শ্রমিকের সাক্ষাত্কার নেয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক সলিল শেঠি বলেন, ‘সেখানকার শ্রমিকরা তাদের অধিকার চায়। তারা সময়মতো বেতন চায়, প্রয়োজন হলে কাতার ছাড়তে চায়। ’

অ্যামনেস্টি জানায়, সেখানে নিয়োগকারী একটি প্রতিষ্ঠান জোর করে কাজ আদায়ে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। কখনো বেতন আটকে রাখছে। আবার মিথ্যা অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে তারা। অ্যামনেস্টির দাবি, সেখানে যা ঘটছে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা ‘জোর করে কাজে বাধ্য করা’।

এক ভারতীয় শ্রমিক জানান, কয়েক মাস ধরে তাঁর বেতন আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তারা জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ তুললে তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। ‘এরপর আমি কোনো অভিযোগ তোলার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকি। তবে সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই এ কাজ ছেড়ে দেব। ’ নেপালের কয়েক শ্রমিকের অভিযোগ, গত এপ্রিলে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁরা দেশে যাওয়ার অনুমতি পাননি। শ্রমিকদের এ দশার জন্য কাতার সরকার ও ফিফার সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য