kalerkantho


অনভিজ্ঞ ১৮ মন্ত্রীর কাঁধে মিয়ানমার গড়ার চ্যালেঞ্জ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



অং সান সু চি এবং তাঁর পুরো দলের জন্য আজ থেকে শুরু হয়েছে নিরন্তর ব্যস্ততা, কঠোর পরিশ্রম আর জনতার সামনে অনবরত পরীক্ষায় বসা। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে নতুন সরকারে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির খপ্পরে পরা মন্ত্রী যেমন আছেন, তেমনই আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান।

জান্তা প্রভাবিত সদ্য বিদায়ী সরকারের আমলে নানামুখী সংস্কারের হাত ধরে মিয়ানমারের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে থাকে, বাড়তে থাকে বিদেশি বিনিয়োগ। অল্প সময়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশের কাতারভুক্ত হয় মিয়ানমার। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ দেশের মানুষ এখন সুযোগের অপেক্ষায় উন্মুখ। বিপুল সংস্কারপ্রত্যাশী জনগণের আকাঙ্ক্ষা মেটানোটাই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত কয়েক দশক ধরে দমনপীড়নের শিকার মিয়ানমারবাসীর জন্য কাজে নামছেন ১৮ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা, যেখানে প্রায় সবার বয়স ৬০ বছরের বেশি। আর তাতে সু চি হলেন একমাত্র নারী সদস্য, যার কাঁধে আছে চারটি মন্ত্রণালয়।

জনগণের প্রত্যাশা আর কাজের চাপ সামাল দেওয়ার ভয়ে অবশ্য মোটেই ভীত নন সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে। মিয়ানমারের মাগওয়েতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিনের সাবেক প্রধান মিয়াত আয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য নিজের প্রস্তুতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘কেবল জনগণের প্রত্যাশা খুব বেশি, তা নয়। আমাদের নেত্রী অং সান সু চিরও অনেক প্রত্যাশা।

আমাদের অবশ্যই কঠোর চেষ্টা করতে হবে। আমাদের অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ’ নিজ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের ১০০ দিনের পরিকল্পনা আছে, ছয় মাসব্যাপী একটা পরিকল্পনা আছে এবং এক বছর মেয়াদি আরো পরিকল্পনা আছে। আমরা কেবল নীতির খসড়া তৈরি করব না। আমরা বাস্তবে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছি। ’

চ্যালেঞ্জের মুখে অকুতোভয় মন্ত্রী যেমন আছেন, তেমনই আছেন ক্ষমতায় বসার আগেই প্রকাশ পাওয়া যে মন্ত্রী পদে আসীন হতে যাওয়া এক নেতার উচ্চতর ডিগ্রিটি ভুয়া। ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার এক মাস আগেই ফাঁস হয় যে অনলাইনের মাধ্যমে তিনি যে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন, সেই ডিগ্রি দেওয়ার পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানটিই ভুয়া। তার পরও তিনি মন্ত্রিত্ব অর্জন করেছেন। সব কিছু মিলিয়ে এই মন্ত্রিসভার কর্মকাণ্ডের ওপর দেশের জনগণের চোখ তো থাকছেই, থাকছে আন্তর্জাতিক মহলের আগাগোড়া পর্যবেক্ষণ। নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘটনাকে ‘অসাধারণ’ মন্তব্য করে তাঁদের অভিনন্দন জানান। কেবল অভিনন্দন নয়, পুরো মিয়ানমার যে বিপুল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারেও সতর্ক করে দেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট উ তিন কিয়াও এবং চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণকারী সু চির সঙ্গে সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় গত বুধবার। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য