kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মিয়ানমারে ক্ষমতা হস্তান্তর আজ

সেনা ক্ষমতা পোক্ত করেই বিদায় নিচ্ছেন থেইন সেইন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেনা ক্ষমতা পোক্ত করেই বিদায় নিচ্ছেন থেইন সেইন

মিয়ানমারের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে গতকাল পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়ছেন এক ব্যক্তি। ছবিটি ইয়াঙ্গুন থেকে তোলা। ছবি : এএফপি

একে একে আন্তর্জাতিক মহলের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচনটাও সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন মিয়ানমারের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। সফলতার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে আজ তিনি নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরাবতী ডেল্টার ছোট গ্রামের কৃষক সন্তান থেইন সেইন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তাঁর প্রায় ৫০ বছরের পেশাজীবনে একসময় জেনারেল পদ অর্জন করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি যখন দেশের প্রেসিডেন্ট পদে বসেন, তখন কাগজে-কলমে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হলেও ওই বলয় থেকে তিনি সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তাঁর আমলেই এমন একটি সংবিধান প্রণীত হয়, যার মাধ্যমে পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসনের স্থায়ী দখল পান সেনা সদস্যরা। রুদ্ধ হয়ে যায় অং সান সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ।

থেইন সেইনের আপাত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে প্রণীত ওই সংবিধানের ফল হিসেবে সু চির পরিবর্তে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উ তিন কিয়াওয়ের হাতে আজ ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতাও হচ্ছে আজই। আগামী শুক্রবার থেকে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন শুরু করবে।

সংবিধান প্রণয়নে সেনাবাহিনীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটলেও এর মধ্যেই থেইন সেইন মিয়ানমারে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। বহু রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, বিভিন্ন সশস্ত্র নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা, নানা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, এমনকি সু চির সঙ্গে বৈঠকের দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন সেইন। প্রভাবশালী প্রতিবেশী চীনের কয়েক শ কোটি ডলারের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ফিরিয়ে দেওয়ার দুঃসাহসও তিনি দেখিয়েছেন। নানামুখী সংস্কারের ফল হিসেবে তাঁর আমলে মিয়ানমারের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে থাকে। এত কিছু সত্ত্বেও সেইনের ওপর সেনাবাহিনীর ছায়া থেকে গেছে, এমন সমালোচনাও আছে। তাঁর সরকার দমননীতি থেকে খুব একটা সরে আসেনি। প্রতিবাদের কারণে বন্দি করার ঘটনা সেইনের আমলেও ঘটেছে। তাঁর নানা সংস্কারের সুবিধা ভোগের দিক থেকে এগিয়ে ছিল জান্তাঘেঁষা ব্যক্তিরা। সুবিধাভোগী এসব ব্যক্তি সেইন সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থ আদায়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। ইয়াঙ্গুনের ৫৯ বছর বয়সী আইনজীবী ই ই বলেন, ‘জনগণ আরো পরিবর্তন আশা করে। কিন্তু তারা (সেনাবাহিনী) কেবল তাদের উর্দিটাই পাল্টেছে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য