kalerkantho

25th march banner

আইএসমুক্ত ‘বালুর ভেনিস’ পালমিরা

ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে?

জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগে পালমিরার একটি অংশ (ওপরে)। নিচে এখনকার অবস্থা। ছবি : এএফপি

একটি নগরের দুটি উপমা—‘বালুর ভেনিস’ ও ‘মরুর মুক্তা’; এতেই বোঝা যায় প্রাচীন পালমিরা নগরের বিশিষ্টতা! ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা দুই হাজার বছরের পুরনো এই সৌধনগরটি গত রবিবার পুরোপুরি পুনর্দখলে নেওয়ার দাবি করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। গত বছরের মে মাসে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের কবজায় চলে গিয়েছিল স

প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী নগরটি আইএসমুক্ত হওয়ার খবর নিঃসন্দেহে আনন্দের। কিন্তু এর বেশির ভাগ স্থাপত্যই মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কট্টর সুন্নিপন্থী আইএসের ঘোষিত নীতিই হলো ‘অনৈসলামিক’ সব নিদর্শন নিশ্চিহ্ন করা। এ অবস্থায় পালমিরায় চালানো ধ্বংসযজ্ঞের সঠিক চিত্র পেতে দরকার বিশদ জরিপ চালানো।

ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক মোহিস সাকথন বলেন, ‘পালমিরা থেকে আইএসকে হটিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঐতিহাসিক নগরটির জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি সেখানকার অধিবাসীদের জন্যও সুখবর। কিন্তু আমাদের এ কথা ভুললে চলবে না যে নগরটির নিয়ন্ত্রণ এখন একনায়ক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের হাতে। ’ তিনি বলেন, পালমিরার আজকের পরিণতির জন্য আসাদ সরকার সব দোষ আইএসের উপরেই চাপাবে। কিন্তু আইএসের মাথাচাড়া দেওয়ার আগে আসাদ বাহিনীও সেখানে লুটতরাজ চালিয়েছে—এ কথাও কারো অজানা নয়।

পালমিরার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পেতে এরই মধ্যে সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আবদুলকরিম গতকাল সোমবার পালমিয়ায় পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, ‘পালমিরার জন্য আমরা অনেক অনেক কেঁদেছি। কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু কখনো আশাহত হইনি। ’

আইএসের তাণ্ডবে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রত্নতাত্ত্বিক সাকথন বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি দুই ধরনের হয়ে থাকবে। এক, দৃশ্যমান। আইএস সেখানকার দুটি প্রধান মন্দির বেল ও বাল শামিম ধ্বংসের চিত্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খিলান ও সাত গম্বুজবিশিষ্ট মন্দির ধ্বংসের কথা আমাদের জানা। কিন্তু এর বাইরেও ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। যেমন মাটির নিচের মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা। এ ছাড়া সেখানকার মূল্যবান জিনিসপত্র তো পাচার হয়েছেই। ’

পালমিরার পুনর্গঠন প্রসঙ্গে সাকথন বলেন, স্থাপত্যগুলোর উপাদান যেমন পাথর খণ্ডগুলো যদি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া না হয়, খণ্ডিত অবস্থায় যদি সেগুলো থাকে, তা সেগুলোর পুনর্গঠন সম্ভব। তবে তা প্রচুর ব্যয়সাপেক্ষ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য