kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সরকার ভেঙে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের কংগ্রেসশাসিত সরকার ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার রাজ্যটির বিধানসভায় আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। আস্থা ভোটের আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলো।

কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে উত্তরাখণ্ড সরকারকে বরখাস্ত করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় গতকাল রবিবার সে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে সই করেন।

৯ জন কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়ে বেরিয়ে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আসে। তাঁর সরকারকে ২৮ মার্চের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী রাওয়াত বারবারই দাবি করছিলেন, তিনি আস্থা ভোটেই প্রমাণ করে দেবেন যে তাঁর সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়নি। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার আস্থা ভোট পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এর আগেই হরিশ রাওয়াত সরকারকে বরখাস্ত করল।

কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে অভিযোগ করেছে, বিজেপি ক্ষমতা ও অর্থের জোরে একের পর এক কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে সরকার ভেঙে দেওয়ার খেলায় মেতেছে।

দলের জাতীয় মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙভি টুইটারে লিখেছেন, ‘উত্তরাখণ্ডে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হলো। না স্পিকার রুলিং দিয়েছেন, না আস্থা ভোট হয়েছে। এর আগেই সরকার ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলো। ’

হরিশ রাওয়াত বলেছেন, ‘সাংবিধানিক পদ্ধতিকে অস্বীকার করে ক্ষমতা ও অর্থবল নিয়ে বিজেপি গণতন্ত্রকে আক্রমণ করেছে। ’

৭০ আসনবিশিষ্ট উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় কংগ্রেস গত নির্বাচনে ৩৬টি আসন পায়। সম্প্রতি ৯ জন কংগ্রেস বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন। কংগ্রেস অভিযোগ করে, টাকা দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে বিধায়ক ভাগানোর খেলায় মেতেছে বিজেপি। তবে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন বলেও হরিশ রাওয়াত জানিয়ে দেন। আজ সোমবার উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল।

শনিবারই উত্তরাখণ্ড বিধানসভার স্পিকার গোবিন্দ কুঞ্জওয়াল দলত্যাগী বিধায়কদের নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, দলত্যাগবিরোধী আইনে কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হবে না। এই দলত্যাগীদের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে গেলে উত্তরাখণ্ড বিধানসভার সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৩-তে। ৩২ জন বিধায়কের সমর্থন পেলেই গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারতেন রাওয়াত। সূত্র : পিটিআই।


মন্তব্য